প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘জিও-এনজিও কোলাবোরেশন ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ জানান, শিক্ষা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের লার্নিং আউটকাম বা শেখার ফলাফল উন্নত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি-এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)-গুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তার মতে, শুধু সরকারের একক উদ্যোগে নয়; বরং উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শিক্ষাক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী, দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক প্রশিক্ষণের উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মনিটরিং জোরদার করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনা চালু করা।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং সহজে সম্প্রসারণযোগ্য উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে কাজে লাগাতে চায় সরকার।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থী, নন-ফরমাল শিক্ষা কার্যক্রমের আওতাভুক্ত শিশু, শহরমুখী অভিবাসী পরিবারের শিশু, চা-বাগান এলাকার শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
