বুধবার ০১, জুলাই ২০২৬

বুধবার ০১, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

কুবিতে স্পোর্টস স্কলারশিপে বৈষম্যের অভিযোগ

মংক্যএ মার্মা,কুবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৬ সালের স্পোর্টস স্কলারশিপে খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মূল্যায়নের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার মোরসালিন হোসাইন। এ বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কাছে লিখিতভাবে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুনরায় কমিটির সভা করে তাকে সুপারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত সোমবার শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল আলমের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন মোরসালিন। আবেদনে তিনি স্কলারশিপ না পাওয়ার বিষয়ে আপত্তি না জানিয়ে, কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে—তার ব্যাখ্যা চান।

মোরসালিনের দাবি, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ব্যক্তিগত অর্জন, দলগত সাফল্য এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অর্জিত সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে স্পোর্টস স্কলারশিপ প্রদান করা হলেও এবার সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট ছিল না।

তার ভাষ্য, চলতি বছরের আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। এছাড়া আগের দুই আসরে তৃতীয় স্থান অর্জনের পাশাপাশি ফুটবলে দুইবার রানারআপ দলের সদস্য হিসেবেও খেলেছেন।

তিনি আরও জানান, চলতি আসরে ভলিবলে ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হয়েছেন সৌরভ এবং ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ হয়েছেন অমিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী একই খেলোয়াড়কে দ্বিতীয়বার স্পোর্টস স্কলারশিপ দেওয়া হয় না বলে সৌরভ মনোনীত হননি এবং অমিত আবেদনও করেননি। তার দাবি, অর্জন ও সার্টিফিকেটের বিচারে তিনি অন্তত একজন নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সমপর্যায়ের এবং আরেকজনের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন।

স্কলারশিপের ফল প্রকাশের পর তিনি শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, এবার ভলিবলে পারফরম্যান্সকে প্রধান বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে সেই পারফরম্যান্স কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কেন তিনি বাদ পড়েছেন—এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে তাকে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সোহরাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেখানে তাকে লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রথমে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানানো হলেও পরে বিষয়টি পুনরায় কমিটিতে আলোচনায় আনা হয়।

মোরসালিনের অভিযোগ, আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচন নিয়েও বিতর্ক ছিল। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখলেও তিনি স্বীকৃতি পাননি। বিষয়টি নিয়ে তার দল এবং প্রতিপক্ষ দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি বলেন, “আমি কারও প্রাপ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। যারা স্কলারশিপ পেয়েছেন, তাদের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান রয়েছে। আমি শুধু জানতে চাই, কী মানদণ্ডে নির্বাচন করা হয়েছে এবং আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে।”

আবেদনে তিনি চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চান—কোন মানদণ্ডে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, নির্বাচিতদের ব্যক্তিগত অর্জন কী ছিল, সার্টিফিকেট মূল্যায়নের পদ্ধতি কী এবং যদি শুধুমাত্র পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই পারফরম্যান্স কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল আলম বলেন, “যারা আবেদন করেছে, তাদের বিষয়ে আমরা সভা করেছি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সেটি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, তাই এখন আর কোনো সংশোধনের সুযোগ নেই। তবে উপাচার্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দিলে, যাদের নাম আমরা সুপারিশ করেছি কিন্তু এবার মনোনয়ন পায়নি বলে মনে করছে, ভবিষ্যতে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

অন্যদিকে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, “মুরসালিন ও পিয়াস দুজনই প্রায় সমান মানের খেলোয়াড়। একজন লিফটার, অন্যজন স্ম্যাশার। তাদের পারফরম্যান্সের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা কঠিন ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে স্পোর্টস কমিটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনা করেছে। আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ইভেন্টে দুইজনের পারফরম্যান্স সমান মনে হলে একই বছরের অন্যান্য খেলায় তাদের অবদানও বিবেচনা করা হয়। সেই বিবেচনায় দেখা যায়, পিয়াস শুধু ভলিবলেই নয়, ফুটবলেও চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় দলের অধিনায়ক। অন্যদিকে মুরসালিনও খুব ভালো খেলেছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, "পরে বিষয়টি উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। আমি তাঁকে বলেছি, সম্ভব হলে ভবিষ্যতে পুরস্কারের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এতে আরও বেশি শিক্ষার্থী স্বীকৃতি পাবে এবং খেলাধুলায় উৎসাহিত হবে। মুরসালিনের বিষয়টি যেহেতু খুব কাছাকাছি ছিল, তাই আমরা আবারও কমিটির সভা করে আলোচনা করেছি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে শিক্ষা দপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে এবং মুরসালিনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।"

Link copied!