বুধবার ০১, জুলাই ২০২৬

বুধবার ০১, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে ডাচদের বিদায়, শেষ ষোলোয় মরক্কো

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০৭ এএম

ছবি: সংগৃহীত

মন্তেরেইয়ে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর লড়াই অনেকটাই বোস্টনে অনুষ্ঠিত জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচের মতো নাটকীয় ছিল। নির্ধারিত সময় দুই ম্যাচেই ১-১ সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল জয়ের গোল খুঁজে না পাওয়ায় ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে টাইব্রেকারের ওপর।

সেখানেই দেখা যায় অবিশ্বাস্য এক নাটক। দুই দলই একের পর এক স্পট-কিক নষ্ট করে। শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস তিনটি এবং মরক্কো দুটি শট মিস করলেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের ৭২ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯১) ইসা দিওপের হেডে সমতায় ফেরে মরক্কো। অবশ্য ৯৬ মিনিটে সুফিয়ান রাহিমি খুব কাছ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়েই শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনকে পরাস্ত করতে না পারায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও গোল না হওয়ায় ফল নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।

ম্যাচের প্রথমার্ধ এবং দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটি অংশে আক্রমণে তুলনামূলক বেশি কার্যকর ছিল মরক্কো। তারা একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি। যখন মনে হচ্ছিল নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র হতে যাচ্ছে, তখনই গাকপোর পায়ে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।

ডাচ উইঙ্গার ক্রিসেনসিও সামারভিল মরক্কোর বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের চাপে পড়ে যাওয়ার আগে বলটি গাকপোর দিকে বাড়িয়ে দেন। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন গাকপো।

এই গোলের পেছনে ছিল ব্যক্তিগত আবেগেরও একটি গল্প। কোডি গাকপো ও তাঁর স্ত্রী নোয়া ফন ডার বিজ তাদের অনাগত সন্তানের নাম ঠিক করেছিলেন ‘এলিজা রাফায়েল গাকপো’। কিন্তু সন্তানটি জন্মের আগেই মারা যায়। কয়েক দিন আগে নোয়া সামাজিক মাধ্যমে সেই দুঃসংবাদ জানান। কঠিন সেই শোক বুকে নিয়েই দলের সঙ্গে ছিলেন গাকপো। গোল করার পর হাঁটু গেড়ে বসে আবেগঘন উদ্‌যাপন করেন তিনি। পরে সতীর্থরাও ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন।

তবে শেষ হাসি ছিল মরক্কোর। যোগ করা সময়ে শেমসদিন তালবির বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন ভার্জিল ফন ডাইক। সেই সুযোগে তাঁর পেছন থেকে উঁচু লাফিয়ে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন ইসা দিওপ। সমতায় ফেরার পর অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোল করতে না পারলে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুর লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরক্কো, আর হতাশা নিয়েই বিদায় নিতে হয় নেদারল্যান্ডসকে।

Link copied!