প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
এবার পাঁচ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। একই সঙ্গে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এই নতুন ব্যবস্থার কারণে কোনো একটি অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে প্রয়োজন হলে সারাদেশেই পরীক্ষা স্থগিত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
তিনি বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহারের কারণে দেশের কোনো এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দিলে শুধু ওই অঞ্চলে নয়, পুরো দেশের পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, যদি কোনো একটি বিভাগে বড় ধরনের দুর্যোগ হয়, তাহলে নির্ধারিত দিনের পরীক্ষা সারাদেশে স্থগিত রেখে পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখে একযোগে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তার মতে, এটি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষার্থী যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হবে। কোনো দুর্ঘটনা বা যৌক্তিক কারণে পরীক্ষার্থী দেরিতে এলে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড নমনীয় অবস্থান রাখবে।
বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হবে। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) শাখায় বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সব বোর্ডে পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। তবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
১১ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি
এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন ৩ লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী বোর্ডের ২০৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুর বোর্ডের ২১২টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন এবং যশোর বোর্ডের ২৪০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন।
চট্টগ্রাম বোর্ডের ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। কুমিল্লা বোর্ডে ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, সিলেট বোর্ডে ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশাল বোর্ডের ১৪২টি কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী আলিম পরীক্ষায় অংশ নেবেন। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।
