বুধবার ০১, জুলাই ২০২৬

বুধবার ০১, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

সিলেট বোর্ডে বেড়েছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা

ছাইম ইবনে আব্বাস,এমসি কলেজ, সিলেট।

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

ফাইল ফটো

দীর্ঘ প্রস্তুতি, নির্ঘুম রাত, অসংখ্য অনুশীলন আর স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে বসতে যাচ্ছে সিলেট বিভাগের হাজারো শিক্ষার্থী। শিক্ষা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। প্রথম দিনের বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা, যা ঘিরে ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগজুড়ে সম্পন্ন হয়েছে সব ধরনের প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ৭২ হাজার ৭৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ হাজার ৫৭৩ জন, যা শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৯ হাজার ২১৭ জন ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ হাজার ৫৪০ জন নিয়মিত, আর বাকিরা অনিয়মিত, মানোন্নয়ন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ হাজার ১৭২ জন। তাদের মধ্যে ২৭ হাজার ৭৬৪ জন ছাত্র এবং ৪১ হাজার ৪০৮ জন ছাত্রী ছিলেন। এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

এবার সিলেট বিভাগের চার জেলার ৩৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৬টি পরীক্ষাকেন্দ্র, যেখানে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সিলেট জেলার ১৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩১ হাজার ২১৫ জন পরীক্ষার্থী ৩৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন। সুনামগঞ্জ জেলার ৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ হাজার ৮৭০ জন পরীক্ষার্থী ২২টি কেন্দ্রে অংশ নেবেন।

অন্যদিকে মৌলভীবাজার জেলার ৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী ১৬টি কেন্দ্রে এবং হবিগঞ্জ জেলার ৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ হাজার ৯২১ জন পরীক্ষার্থী ২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীন জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগের চার জেলার ৩৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭২ হাজার ৭৪৫ জন পরীক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ২৯ হাজার ২১৭ জন ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিভাগের ৯৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, "পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছেন।"
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিরাজ করছে আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যাশার মিশ্র অনুভূতি। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি গুছিয়ে এখন ভালো ফলাফলের আশায় দিন গুনছেন তারা।

ইছরাব আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাহিয়ান বিন মর্তুজা বলেন, "দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী। সিলেবাসের সব বিষয়ই শেষ করেছি এবং নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করছি। আশা করছি, পরীক্ষা ভালো হবে।  আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ভালো ফলের প্রত্যাশা করছি।"

অন্যদিকে  সরকারি মোহাম্মদ চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা নুজহাত বলেন, "পরীক্ষা নিয়ে আত্মবিশ্বাস থাকলেও মনে একটু ভয় কাজ করছে। কারণ এই পরীক্ষার ফলাফলই আমাদের উচ্চশিক্ষার পথ অনেকটাই নির্ধারণ করবে। চেষ্টা করেছি পুরো সিলেবাস শেষ করে নিয়মিত রিভিশন দিতে। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি, প্রশ্নের উত্তরগুলো ঠিকভাবে লিখতে পারব এবং ভালো ফল অর্জন করতে পারব। সবার কাছে দোয়া চাই।"

প্রথম দিনের বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে।
পরীক্ষা হবে তিন ঘণ্টাব্যাপী। প্রথমে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশ অনুষ্ঠিত হবে। দুই অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

এইচএসসি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সিলেট মহানগরের ২৫টি পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

এসএমপির পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা পর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ২০০ গজ এলাকার মধ্যে সব ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল, উচ্চশব্দ সৃষ্টি এবং মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া অস্ত্র, লাঠিসোঁটা বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন, বহিরাগত ব্যক্তিদের অবাধ চলাচল এবং অননুমোদিত ব্যক্তিদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালীন সময় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে অস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রেখে পরীক্ষা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Link copied!