প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
দেশীয় সংস্কৃতি, বর্ষার ঐতিহ্য এবং মৌসুমি ফলের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরতে রাজশাহী কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মৌসুমি ফল ও বর্ষা উৎসব’। দিনব্যাপী এ আয়োজনে বর্ষার গান, পুঁথি পাঠ, জারি গান, আদিবাসী নৃত্য ও মৌসুমি ফলের প্রদর্শনীতে মুখর হয়ে ওঠে কলেজ প্রাঙ্গণ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজশাহী কলেজের নজরুল চত্বরে রোটার্যাক্ট ক্লাব অব রাজশাহী গভর্নমেন্ট কলেজ ও রোটারি ক্লাব অব পদ্মা রাজশাহীর যৌথ উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। পরে পুঁথি পাঠ, জারি গান, আদিবাসী নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, বর্ষার গান এবং দর্শক অংশগ্রহণমূলক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি উপস্থিত সবার জন্য পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন মৌসুমি ফল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মো. ইউনুছ আলী এবং মোটিভেশনাল স্পিকার ও কনসালট্যান্ট মেডিসিন রোটারিয়ান ডা. এম. জহুরুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আফাজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানের ইভেন্ট চেয়ারম্যান ছিলেন রোটার্যাক্টর সালমান ফারসি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ড. মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, “জ্যৈষ্ঠ মাস আমাদের ফলের মৌসুম। এ সময়ের প্রধান আকর্ষণ আমসহ নানা ধরনের দেশীয় ফল। মৌসুমি ফলের সঙ্গে বর্ষা উৎসবের আয়োজন আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গভীর। ঋতুভিত্তিক উৎসব সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
রোটার্যাক্ট ক্লাবের সভাপতি সুমাইয়া আক্তার বলেন, রাজশাহী কলেজে এ ধরনের মৌসুমি ফল ও বর্ষা উৎসব এবারই প্রথম আয়োজন করা হয়েছে। রাজশাহীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, উৎসবে বিভিন্ন দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় ফলের পাশাপাশি নানা প্রজাতির গাছও প্রদর্শন করা হয়েছে।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সিনথিয়া আফরিন বলেন, এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে।
দিনব্যাপী এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। বর্ষার আবহে দেশীয় সংস্কৃতি ও মৌসুমি ফলের সমন্বয়ে আয়োজিত ব্যতিক্রমী এ উৎসব উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।
