বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

পারফিউমের ঘ্রাণে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছড়াচ্ছেন ভিক্টোরিয়ার মুহিত

ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে রাকিব হোসেন

প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

একটি টেবিল। তার ওপর নান্দনিকভাবে সাজানো ছোট-বড় নানা আকৃতির পারফিউমের বোতল। বড় বোতল থেকে ছোট বোতলে পরিমাপ করে বিক্রি করা হচ্ছে সুগন্ধি। কেউ এসে পছন্দের পারফিউমের ঘ্রাণ শুঁকছেন, কেউ আবার আতর কিংবা প্রিয় সুগন্ধিটি কিনে নিচ্ছেন। আর সেই টেবিল ঘিরে ধীরে ধীরে ভিড় জমাচ্ছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।

স্বপ্ন অনেকেরই থাকে, কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সাহস, পরিশ্রম ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা। এমনই এক গল্প কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মুহিতের। পড়াশোনার পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC)-এর সেনা শাখায় ক্যাডেট কর্পোরাল হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি এগিয়ে চলেছেন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে।

মুহিতের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটি শুরু হয়েছিল অনেকটা আকস্মিকভাবেই। ব্যবসা সম্পর্কে আগে তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর, এমনকি এ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহও ছিল না। তবে তাঁর বড় ভাই আব্দুল্লাহ আত্ তাসনিম প্রায় পাঁচ বছর ধরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। একদিন বড় ভাই মুহিতের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন পারফিউম-সংক্রান্ত গ্রুপে একটি পণ্যের পোস্ট করেন। পোস্ট দেওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই একজন ডিক্যান্ট ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং একসঙ্গে ৩০০টি পারফিউমের বোতলের অর্ডার দেন।

সেই একটি অর্ডারই যেন বদলে দেয় মুহিতের চিন্তার জগৎ। তিনি উপলব্ধি করেন, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও সুযোগকে কাজে লাগানোর মানসিকতা থাকলে ব্যবসার ক্ষেত্রেও ভালো কিছু করা সম্ভব।

এই উপলব্ধি থেকেই ১০ মে ২০২৬ সালে ‘Muhit's Collection’ নামে একটি ব্যবসায়িক পেজ চালু করেন তিনি। শুরুতে অনলাইনে পারফিউমের বোতল বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডিক্যান্ট ব্যবসায়ীরা তাঁর কাছ থেকে পাইকারি দামে পারফিউমের বোতল সংগ্রহ করতে থাকেন।

তবে অনলাইন ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে অফলাইনে আসার সিদ্ধান্তটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না। পরিচিত মানুষের সামনে বসে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে এক ধরনের সংকোচ কাজ করত। ‘মানুষ কী ভাববে’—এই প্রশ্নই দীর্ঘদিন তাঁকে আটকে রেখেছিল। বিশেষ করে নিজের কলেজ ক্যাম্পাসে স্টল দেওয়ার বিষয়ে তিনি ছিলেন বেশ দ্বিধাগ্রস্ত।

এই সংকটের সময় পাশে দাঁড়ান তাঁর BNCC-এর ব্যাচমেট ফয়েজ ও ফাহিম। তাঁদের উৎসাহ ও সাহস মুহিতকে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তাঁরা আশ্বস্ত করেন, প্রয়োজন হলে প্রথম দিন তাঁরা তাঁর পাশে থাকবেন। বন্ধুদের এই অনুপ্রেরণাই শেষ পর্যন্ত মুহিতকে জীবনে প্রথমবারের মতো কলেজ ক্যাম্পাসে স্টল নিয়ে বসার সাহস দেয়।

মুহিত বলেন, ‘প্রথম দিনেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাই, যা আমার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। যে সংকোচ একসময় আটকে রেখেছিল, সেই সংকোচ পেরিয়েই এখন এই উদ্যোগকে আরও বড় করার স্বপ্ন দেখছি।’

মুহিত আরও জানান, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি ছোট উদ্যোগই একদিন বড় স্বপ্নের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। সবার কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া চাই, যেন সততা, পরিশ্রম ও মানসম্মত সেবার মাধ্যমে Muhit's Collection-কে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’

Link copied!