প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ অনলাইনে খাবার ও পানীয় পাঠাচ্ছেন। জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের কর্মীরা সেই খাবার সরাসরি আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সমর্থকেরা সুইগি ও জোম্যাটোর মতো অনলাইন খাদ্য সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে খাবার অর্ডার করছেন। পরে ডেলিভারি কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, বরং যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের মধ্যে খাবারগুলো বিনা মূল্যে বিতরণ করে দিতে।
ভারতের বেসরকারি বার্তা সংস্থা এএনআইকে সুইগির ডেলিভারি কর্মী প্রদীপ কুমার সিং বলেন, ‘একটি অর্ডার আসে। তারপর গ্রাহক বলেন, “ভাই, এগুলো ওখানেই বিতরণ করে দিন। যাঁর প্রয়োজন, তাঁকে দিয়ে দিন।”’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল আমার কাছে সমুচার একটি অর্ডার এসেছিল। আমাকে বলা হয়েছিল শুধু এখানে এনে সবার মধ্যে বিলিয়ে দিতে। এগুলো নিতে কেউ আসেন না।’
শুধু ভারতের ভেতর থেকেই নয়, বিদেশ থেকেও আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার ও পানীয় পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডেলিভারি কর্মীরা।
আরেক ডেলিভারি কর্মী মহেন্দ্র কুমার জানান, তিনি এক বিদেশি গ্রাহকের দেওয়া চায়ের অর্ডার যন্তর মন্তরে পৌঁছে দিয়েছেন।
এএনআইকে তিনি বলেন, ‘আমি এই অর্ডার নিয়ে এসেছি। এটি ভারতের বাইরে থেকে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, “যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনরত ভাইদের দিয়ে দিন।”’
পরে তিনি আরও বলেন, ‘কার পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে, আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে, এখানে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের চা দিয়ে দিতে।’
জোম্যাটো ও জেপ্টোর সঙ্গে যুক্ত আরেক ডেলিভারি কর্মীও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এসব অর্ডার মূলত শিক্ষার্থীদের সহায়তার উদ্দেশ্যেই পাঠানো হচ্ছে।
তিনি এএনআইকে বলেন, ‘প্রেরকের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। আমাকে শুধু বলা হয়েছে, “সব বিতরণ করে দিন।” কে অর্ডার করেছেন, আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে সেখানে গিয়ে দিয়ে আসতে। এটা “স্টুডেন্ট সার্ভিস”, এটা শিক্ষার্থীদের জন্য। এটা কার বা এর মধ্যে কী আছে, সেটাও আমি জানি না।’
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত এই আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত মোট ১০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। আন্দোলনকে ঘিরে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
