প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজজেলায় অনুমোদনহীন, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বিভিন্ন শিশু খাদ্য অবাধে বিক্রি হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে, গ্রামাঞ্চলের মুদি দোকান ও কনফেকশনারিতে এসব খাদ্যপণ্য সহজলভ্য হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা।
মঙ্গলবার উপজেলার মেইন রোড, মধ্যবাজার, মুড়িহাটা, গাজী সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রঙিন মোড়কে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস, ড্রিংকস, লাচ্ছি, ললিপপ, চিপস, চকলেট, ক্যান্ডি, চুইংগাম, ওয়েফার, আইস পপসহ নানা খাদ্যপণ্য। এসবের অধিকাংশের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানের তালিকা কিংবা বিএসটিআইয়ের অনুমোদনের তথ্য নেই।
স্থানীয়রা জানান, আকর্ষণীয় মোড়ক ও খেলনা সংযুক্ত থাকায় শিশুরা এসব খাদ্যের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে। অনেক অভিভাবক না বুঝেই এসব পণ্য কিনে দিচ্ছেন। ফলে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, আমাশয়, বমি ও অন্যান্য পেটের রোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে শিশুদের ক্ষুধামন্দা, অপুষ্টি, স্নায়বিক দুর্বলতা, পাকস্থলীর সমস্যা, এমনকি কিডনির জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু পণ্যে বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করা হলেও সেগুলো প্রকৃতপক্ষে অনুমোদিত নয়। পাশাপাশি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে তদারকির অভাব এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় ভেজাল খাদ্যের বিস্তার বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, অস্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিহীন খাবার শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ধরনের খাবার পেটের নানা রোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জটিল স্বাস্থ্যসমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি অভিভাবকদের শিশুদের ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও অনুমোদনহীন শিশু খাদ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
