রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬

রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

দুই বছরেও বিচার নেই, উপেক্ষিত শাবিপ্রবির শহিদ রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণ

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রথম শহিদ কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (সিইপি) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুদ্র সেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৮ জুলাই)। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর হত্যাকাণ্ডের বিচার ও স্মৃতি সংরক্ষণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, সহযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও রুদ্র সেনের স্মরণে স্থায়ী কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, ৫ আগস্টের পর তাঁরা নিজ উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের নকশা ও স্পনসরের ব্যবস্থা করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেই এটি নির্মাণ করবে বলে আশ্বাস দেয়। পরে প্রশাসনের তৎকালীন দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, রুদ্র হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে আপত্তি আসতে পারে—এমন যুক্তিতে উদ্যোগটি স্থগিত রাখা হয়। এ অভিযোগকে বৈষম্যমূলক ও জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। তাই শহিদের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে অনীহা দেখানো আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, রুদ্র সেন হত্যা মামলার তদন্তেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ঘটনার দুই বছর পার হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়নি। বারবার সময় বাড়ানো হলেও বিচার প্রক্রিয়া এগোয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের না হওয়ায় আন্দোলনের একজন সহযোদ্ধা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলার ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন রুদ্র সেনের বাবা সুবীর সেন, মা শিক্ষা বণিক এবং পরিবারের সদস্যরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, রুদ্র সেন শাবিপ্রবির জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের প্রতীক। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে ক্যাম্পাসে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন এবং দোষীদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

 
 
 
Link copied!