প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে র্যাগিং, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোডের বিটাক ভবনের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নবীনদের নিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ, গালাগালি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ সময় এক নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং আরও কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করা হয় এবং ক্যাম্পাসের কুকুরকেও সালাম দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও হাতঘড়ি নিয়ে রাখা হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে ক্যাম্পাস জীবন দুর্বিষহ করে তোলার হুমকি দেওয়া হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী আপত্তি জানালে তাদের মারধরেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সিনিয়ররা বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেন, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠতেও নিষেধ করেন। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় একটি বদ্ধ পরিবেশে রেখে তাদের ওপর র্যাগিং ও বুলিং চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত তৌফিক ওমর অপু বলেন, শিক্ষকদের অনুমতি নিয়ে ক্লাসরুমে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট নবীনদের সঙ্গে পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন করা হয়েছে। এর বাইরে তাদের কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী জয়ও অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরে নবীনদের নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সরদার কায়সার আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিংয়ের বিষয়ে বিভাগের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুই-এক কর্মদিবসের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে। র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
