প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
বর্ষার সবুজে মোড়ানো প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে। জেলার ৯৩টি চা বাগান, বৃষ্টিভেজা পাহাড়, সবুজের সমারোহ এবং চায়ের সুবাস মিলিয়ে এ সময় পর্যটকদের জন্য অনন্য এক গন্তব্য হয়ে ওঠে শ্রীমঙ্গলসহ পুরো জেলা।
বাংলাদেশের ১৬৮টি চা বাগানের মধ্যে ৯৩টিই মৌলভীবাজারে অবস্থিত। জেলার সাতটি উপজেলার প্রতিটিতেই রয়েছে চা বাগান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০টি বাগান শ্রীমঙ্গলে। এ কারণেই মৌলভীবাজারকে দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ বলা হয়।
চা সংশ্লিষ্টরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টির অভাবে চা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হলেও বর্ষা শুরু হলে গাছগুলো আবার প্রাণ ফিরে পায়। নতুন দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি গজিয়ে ওঠে, যা চা উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। সবুজে মোড়া এই দৃশ্যই পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি পর্যটক আসেন। অনেকেই শুধু রিসোর্টে বসে বৃষ্টি উপভোগ করতে এবং চা পান করতেই শ্রীমঙ্গলে আসেন।
জেলার বিভিন্ন চা বাগানের ভেতরে রয়েছে প্রাকৃতিক লেক ও আঁকাবাঁকা পথ। বর্ষায় এসব লেকে চা বাগানের প্রতিচ্ছবি, মেঘলা আকাশ ও সবুজ প্রকৃতি মিলে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
মৌলভীবাজারের ৯৩টি চা বাগানের মধ্যে প্রায় ৮০টি চা কারখানাও রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব কারখানায় ২৪ ঘণ্টা চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ চলে। পর্যটকরা চাইলে কারখানা পরিদর্শন করে চা তৈরির পুরো প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখতে পারেন।
চা শিল্পের ইতিহাসে মৌলভীবাজারের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ১৯৫৭ সালে শ্রীমঙ্গলে প্রতিষ্ঠিত হয় চা গবেষণা কেন্দ্র, যা পরে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) হিসেবে উন্নীত হয়। বর্তমানে এটি দেশের চা শিল্পের গবেষণা ও উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র।
শ্রীমঙ্গলের নীলকণ্ঠ টি কেবিনের সাত রঙা চাও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। সাতটি স্তর, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ ও রঙের এই চা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
নরসিংদী থেকে আসা পর্যটক জালাল আহমেদ বলেন, বর্ষাকালে চা বাগান ও কারখানা ঘুরে দেখা এবং বৃষ্টির মধ্যে চা পান করার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ।
গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, বর্ষাকালে শ্রীমঙ্গলের চা বাগান সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
পর্যটকরা ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ট্রেনে শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, শমশেরনগর বা কুলাউড়া স্টেশনে নেমে সহজেই চা বাগানে যেতে পারেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাসযোগেও মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গলে পৌঁছে স্থানীয় পরিবহনে বাগানগুলো ঘুরে দেখা যায়।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্ষায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যায়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
