জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
ফাইল ফটো
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিঙ্ক (ইউটিএল) উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশাসনের কোনো কর্মসূচি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
সরকারের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী স্মরণসভা, সমাবেশ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জাককানইবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ওই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ নিহত হন। তাদের স্মরণে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমামুল হোসেন বলেন, আজকের নতুন বাংলাদেশের পেছনে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগের ইতিহাস রয়েছে। যারা জীবন দিয়ে এই পরিবর্তনের ভিত্তি গড়েছেন, তাদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব।তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের সম্মান জানিয়ে অন্তত একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন প্রত্যাশিত ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত আহাদ বলেন, যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার স্থান নয়; এটি ইতিহাস, মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনা ধারণ ও লালনেরও কেন্দ্র। শহীদদের স্মরণ করা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়; এটি মানবিকতা, কৃতজ্ঞতা এবং ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রকাশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, গত বছর সরকার ১৬ জুলাই থেকে মাসব্যাপী জুলাই উদযাপন ও স্মরণে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরাও তখন কর্মসূচি পালন করেছি। এ বছরও সরকার যদি কোনো নির্দেশনা দেয়, আমরা সেটি বাস্তবায়ন করব।
তিনি আরো বলেন, তারপরও জুলাই নিয়ে আমরা কাজ করছি। ‘জুলাই স্কয়ার’ দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। আমি নিজে সেখানে পরিদর্শন করেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে, ঘাস কাটা হচ্ছে এবং ভাঙা টাইলস মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এর উন্নয়নে নতুন নকশাও আহ্বান করা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না এমনটি বলা ঠিক হবে না।