প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের স্ক্রিনের সামনে অতিরিক্ত সময় কাটানো তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, টেলিভিশন ও কম্পিউটারের মতো ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার শিশুদের প্রাথমিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, অল্প বয়সে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুর সঙ্গে অভিভাবকের মানসিক বন্ধন তৈরির সুযোগ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় হ্রাস এবং ভাষা বিকাশে বাধার মতো বিষয়ও দেখা দিতে পারে।
লিডস ইউনিভার্সিটির মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার এবং গবেষণার সহ-প্রধান রেফ ক্লেটন বলেন, 'নিজেদের স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অভিভাবকরা অজান্তেই শিশুদের মধ্যে স্ক্রিননির্ভর অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও সম্পর্ক গড়ে তুলছেন৷ তিনি যোগ করেন, 'এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া জরুরি'।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প বয়সে স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের মধ্যে ‘ওভার-স্টিমুলেশন’ বা অতিরিক্ত স্নায়বিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা, চোখের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং স্থূলতার প্রবণতাও বাড়তে পারে।
গবেষকরা আরও জানান, অনেক শিশু ধীরে ধীরে মা-বাবার সাহচর্যের পরিবর্তে মানসিক প্রশান্তির জন্য ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা উদ্বেগের বিষয়।
যুক্তরাজ্যের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যাকশন অন ডিজিটাল ডিভাইস ইমারসিভ কন্ডিশনস টিম’ এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, স্ক্রিন ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট কোনো বিকাশজনিত সমস্যার মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়মিত ইচ্ছাকৃতভাবে স্ক্রিন দেখতে দেওয়া উচিত নয় বলে তারা মত দিয়েছেন।
গবেষকদের ভাষ্য, সামাজিক বিভিন্ন কারণে শিশুদের স্ক্রিনের সংস্পর্শে আসা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও, অভ্যাস হিসেবে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষকদের মতে, 'অভিভাবকরা বিশ্বাস করতে পারেন যে শিশুদের স্ক্রিন টাইমে কোনো ক্ষতি নেই, যা শেষ পর্যন্ত তাদের বিকাশে বিলম্ব ঘটাতে পারে এবং আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে তুলতে পারে'।
গবেষণা দলটি শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের ঝুঁকি চিহ্নিত করতে ‘বেবি স্ক্রিন-টাইম রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ বা ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
