প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে হরমুজ প্রণালিতে আবারও নৌযান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান বলছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এটি তাদের ‘প্রথম পদক্ষেপ’, তবে আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ শনিবার জানিয়েছে, দেশটির সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর কাতাম আল-আনবিয়া এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের সামরিক তৎপরতার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হিসেবে বিবেচিত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাজারে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরান এই জলপথে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। পরে ওয়াশিংটন–তেহরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর সীমিতভাবে নৌ চলাচল পুনরায় চালু হয়।
তবে সেই সমঝোতা এখনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তিতে রূপ নেয়নি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর কথা থাকলেও লেবাননে চলমান সংঘাত সেই প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে পারেন। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা অন্তর্বর্তী চুক্তির ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী।
অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, একটি প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে জোর দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফারস নিউজকে বলেন, ওয়াশিংটনের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের স্পষ্টতা চাওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে ইরান ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে পিছপা হবে না।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
