প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ভিয়েতনামে জবাই ও মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এমন চার শতাধিক বিড়াল উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। প্রাণীকল্যাণবিষয়ক একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিড়াল চুরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়।
হো চি মিন নগর পুলিশের সরকারি প্রকাশনায় জানানো হয়েছে, বিড়াল চুরি ও সংগ্রহে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়েছে।
ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস ভক্ষণ আইনত বৈধ। তবে এসব প্রাণী বিক্রির ক্ষেত্রে তাদের উৎসসংক্রান্ত বৈধ অনুমোদনপত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পোষা প্রাণী চুরির একাধিক ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে গত ১১ জুন এই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে গত তিন বছর ধরে তারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল ধরে সংগ্রহ করছিলেন। চুরি করা প্রাণীগুলো প্রথমে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হতো। পরে প্রতি দুই থেকে তিন দিন অন্তর সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো।
প্রাণীকল্যাণ সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০টিকে ইতোমধ্যে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি প্রাণীগুলোর জীবন রক্ষায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দৃঢ় পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তবে নির্যাতন ও দুর্ভোগের কারণে উদ্ধার করা কয়েকটি বিড়াল পরবর্তীতে মারা গেছে বলেও জানিয়েছে তারা।
মামলার অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকায় পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রাণীগুলোর জন্য খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করছে সংস্থাটি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যাদের পোষা প্রাণী চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ রয়েছে, তাদের উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো শনাক্ত করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রাণীকল্যাণ সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনামে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর এবং ১০ লাখ বিড়াল মাংসের জন্য ধরা, চুরি, পাচার ও জবাই করা হয়।
সংস্থাটির দাবি, অনেক ক্ষেত্রে পোষা প্রাণী সরাসরি বাসাবাড়ি থেকে চুরি করা হয়। কুকুর ধরতে বিষমিশ্রিত খাবার, বৈদ্যুতিক শকযন্ত্র ও লোহার চিমটা ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, বিড়াল ধরার জন্য ব্যবহার করা হয় স্প্রিংযুক্ত ফাঁদ।
যদিও দেশটিতে এখনো কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে, প্রাণীর অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
