প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার মিলেছে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ। ছয় মাস পর মসজিদের ১৩টি লোহার সিন্দুক ও ৩টি অস্থায়ী ট্রাঙ্ক খুলে গণনা শেষে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টার দিকে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। তখনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার পাওয়া যায়।
দানবাক্স খোলার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ পরিচালনা কমিটির সদস্য, র্যাব, পুলিশ, আনসার এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরবর্তী হারুয়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো এই পাগলা মসজিদ। শহরের হয়বতনগর জমিদার বাড়ির পূর্ব পুরুষ আধ্যাত্মিক সাধক পাগল হিসেবে পরিচিত জিল কদর খান একসময় নরসুন্দা নদীর মাঝপথে জেগে ওঠা উঁচু টিলায় তার আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। মৃত্যুর পর ওই আস্তানাটি মসজিদে রূপ নেয়।
পরবর্তীতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পাগলা মসজিদটি বিশ্বাস ও আস্থার অন্যতম স্থানে পরিণত হয়। অনেক মানুষ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে মানত করে এখানে দান করেন। সেই বিশ্বাস ও মানুষের আগ্রহের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই মসজিদের দানবাক্সগুলো পূর্ণ হয়ে যায়।
