শুক্রবার ২৬, জুন ২০২৬

শুক্রবার ২৬, জুন ২০২৬ -- : -- --

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ১৬৪, প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ১৬৪, প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা United States Geological Survey (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে ১০ হাজারেও পৌঁছাতে পারে। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে রাজধানী Caracas থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময় পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট Delcy Rodríguez নিহতের প্রাথমিক সংখ্যা নিশ্চিত করলেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত La Guaira অঞ্চলের তথ্য এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউএসজিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ধসে পড়া ভবনের নিচে বিপুলসংখ্যক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। বিশেষ করে রাজধানী ও উপকূলীয় এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি হওয়ায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে।

রাত নামার পর রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি শুরু করেন। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বহু মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। আহতদের স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচে নামছিলাম, তখন সবকিছু ভৌতিক সিনেমার মতো মনে হচ্ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপ মাড়িয়ে আমাদের নিচে নামতে হয়েছে। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক শিশু কোলে এবং সব প্রতিবেশী নিচে নামছিলেন। তবে ওই ধসে পড়া ভবন থেকে আমি কেবল একটি পরিবারকেই বেরিয়ে আসতে দেখেছি।’

বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, ‘কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে। আমরা বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছি। যত বেশি সম্ভব প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছি আমরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘লা গুয়াইরা রাজ্য এখন এক সত্যিকার ট্র্যাজেডির নাম এবং এটি একটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।’

এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সেখানে ১০ হাজারের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি ছুটির দিনে ভূমিকম্প আঘাত হানায় অধিকাংশ মানুষ তখন বাসায় অবস্থান করছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা কোরো মার্টিনেজ বলেন, ‘বিরাট একটি শব্দ হলো। বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র সব পড়ে যাচ্ছিল, এমনকি ফ্রিজের ভেতরের জগগুলোও আছড়ে পড়ল। আমি আগে কখনো এমন কিছুর মুখোমুখি হইনি।’

দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

এদিকে ভেনেজুয়েলায় United Nations Human Rights Mission সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী তথ্য আদান-প্রদান এখন ‘জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন’।

Link copied!