শনিবার ২৭, জুন ২০২৬

শনিবার ২৭, জুন ২০২৬ -- : -- --

সাধারণ ফ্লু নাকি সোয়াইন ফ্লু বুঝবেন কীভাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

 

প্রতি বছর বর্ষা ও শীত মৌসুমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর সংক্রমণ বাড়ে। জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ নিয়ে অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হন। সাধারণ ঠান্ডা-কাশি মনে হলেও সব ফ্লু ভাইরাস একই ধরনের নয়। এর মধ্যে বহুল আলোচিত একটি ধরন হলো এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘সোয়াইন ফ্লু’ নামে পরিচিত।

২০০৯ সালে বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাস মহামারী (প্যান্ডেমিক) সৃষ্টি করেছিল। তবে বর্তমানে এটি আর কোনো নতুন বা আলাদা মহামারী ভাইরাস নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে, এটি এখন অন্যান্য সাধারণ ফ্লুর মতোই একটি নিয়মিত মৌসুমী ভাইরাসে পরিণত হয়েছে।

লক্ষণ দেখে কি আলাদা করা সম্ভব?

সাধারণ ফ্লু ও সোয়াইন ফ্লুর লক্ষণ অনেকটাই একই হওয়ায় শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিতভাবে পার্থক্য করা কঠিন। তবে চিকিৎসকদের মতে, কিছু লক্ষণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া যেতে পারে।

সোয়াইন ফ্লুর ক্ষেত্রে সাধারণত হঠাৎ তীব্র জ্বর, বেশি শরীর ব্যথা, প্রচণ্ড ক্লান্তি ও শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মধ্যে বমি এবং ডায়রিয়ার মতো পেটের সমস্যাও দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে সাধারণ ফ্লুতে জ্বর ও শুকনো কাশি থাকলেও অনেক সময় জ্বরের তীব্রতা তুলনামূলক কম হয়। নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া ও হাঁচির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। সাধারণত এতে পেটের সমস্যা কম হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসব পার্থক্য কেবল প্রাথমিক ধারণা। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৩ থেকে ৫০ লাখ মানুষের অবস্থা গুরুতর হতে পারে।

সাধারণত সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার গ্রহণের মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ফ্লু মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—

৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণ এবং ৫ বছরের কম বয়সি শিশু।

গর্ভবতী নারী।

অ্যাজমা, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষ।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডক্টর অ্যালেক্স ম্যাথিউ জানান, ফ্লুর লক্ষণ দেখা দিলে বাড়িতে থাকা এবং ওষুধ ছাড়া জ্বর সম্পূর্ণ ভালো হওয়ার পর আরও অন্তত ২৪ ঘণ্টা অন্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। তবে শ্বাসকষ্ট, বুকে তীব্র ব্যথা, বিভ্রান্তি বা অচেতন ভাব, শরীর নীল হয়ে যাওয়া কিংবা পানিশূন্যতার মতো ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে নিতে হবে।

প্রতিরোধে করণীয়

চিকিৎসকদের মতে, ফ্লু প্রতিরোধে কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

১. হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে মুখ-নাক ঢাকা।

২. সাবান-পানি বা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া।

৩. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ না করা।

৪. আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং অসুস্থ অবস্থায় মাস্ক ব্যবহার করা।

এছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি বছর নিয়মিত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন বা ফ্লু শট নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

Link copied!