প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০৯ এএম
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করা সংঘাতের অবসানে অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছেছে United States ও Iran। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz পার হয়েছে তিনটি সৌদি সুপারট্যাংকার, যেগুলোতে বহন করা হচ্ছিল প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল।
চুক্তি কার্যকরের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম আরও ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়।
যুদ্ধ বন্ধে বুধবার একটি ‘সমঝোতা স্মারকে’ সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই এই চুক্তি কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি ফিরেছে।
চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচলকারী সংস্থাগুলোর মতে, পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে। কারণ, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রণালিতে মাইন অপসারণসহ বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির এই অগ্রগতির মাঝেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে Lebanon পরিস্থিতি। সেখানে সংঘাত অব্যাহত থাকায় ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালেও নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে Israel।
ইরান শুরু থেকেই জোর দিয়ে বলে আসছিল, যেকোনো শান্তিচুক্তির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাম্পের সই করা চুক্তিতে লেবানন যুদ্ধের ‘স্থায়ী সমাপ্তি’ টানার আহ্বান এবং দেশটির ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তেহরানকে দেওয়া একটি বড় কূটনৈতিক ছাড়।
তবে এই শান্তি আলোচনায় ইসরায়েলকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গত মার্চে লেবাননে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল এবং দক্ষিণাঞ্চলের বড় একটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। দেশটি এটিকে ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে বর্ণনা করেছে।
Benjamin Netanyahu সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, লেবাননে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দর–কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এটিকে ‘একরোখা’ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, ইসরায়েল কোনোভাবেই পিছু হটবে না।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রথমবার যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তখন লেবাননে সংঘাত কিছুটা কমে এলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আবার তা তীব্র হয়েছে। এমনকি চুক্তি সইয়ের পরও হামলা বন্ধ হয়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলের কাফারতেবনিত ও জেবদাইন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি রাজধানী বৈরুত ও তার উপকণ্ঠে ড্রোনের শব্দে নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ হলেও লেবানন ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান ছাড়া পুরো অঞ্চলকে শান্ত বলা এখনো সম্ভব নয়।
