প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
বিশ্বকাপের ইতিহাসে রূপকথার গল্পের অভাব নেই। তবে এবারের আসরে সেই তালিকায় নতুন অধ্যায় যোগ করেছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে গড়েছে নতুন ইতিহাস।
গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে কেপ ভার্দে। রানার্সআপ হয়ে নকআউটে ওঠা দলটি আগামী ৩ জুলাই মায়ামিতে মুখোমুখি হবে Lionel Messiর আর্জেন্টিনার।
বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়াটাই যেখানে ছিল কেপ ভার্দের জন্য বড় অর্জন, সেখানে নকআউট পর্বে ওঠা সেই অর্জনকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পর এবার তারা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নকআউটে ওঠার কীর্তি গড়ল।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেই এমন ইতিহাস গড়া ফুটবল বিশ্বে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করতে পারেন, ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপের সুবিধা পেয়েছে তারা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, কেপ ভার্দের এই যাত্রা শুধুই ভাগ্যের ওপর দাঁড়িয়ে নয়।
আফ্রিকান বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে এসেছে তারা। পেছনে ফেলেছে Cameroon national football teamকে। এরপর মূল পর্বেও নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে, সেরা তৃতীয় দলের হিসাবের অপেক্ষায় থাকতে হয়নি।
এই সাফল্য তাই নিছক চমক নয়, বরং পরিকল্পনা, লড়াই আর ধারাবাহিকতার ফল।
এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন Argentina national football team। শক্তির বিচারে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই স্পষ্ট। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনাই পরিষ্কার ফেবারিট। তবে কেপ ভার্দে এখন পর্যন্ত যেভাবে নিজেদের প্রমাণ করেছে, তাতে তাদের আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
একই সঙ্গে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্যও তুলনামূলক স্বস্তির হতে পারে। এই ম্যাচ জিততে পারলে শেষ ষোলোতে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে Australia national football team বা Belgium national football team।
তবে বড় আলোচনার জায়গা তৈরি হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল ঘিরে। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে আসতে পারে Cristiano Ronaldoর পর্তুগাল। যদি সেটি হয়, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার মুখোমুখি হতে পারেন ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা—মেসি ও রোনালদো।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের দেখা হয়নি কখনো। বয়সের বাস্তবতায় এটাই হয়তো হতে পারে সেই বহু প্রতীক্ষিত শেষ মহারণ।
আর কেপ ভার্দে? তাদের যাত্রা হয়তো এখানেই থেমে যেতে পারে। কিন্তু তাতে ইতিহাস বদলাবে না। কারণ, এই দল ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের পাতায় নিজেদের নাম লিখে ফেলেছে।
