সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

সোমবার ১৫, জুন ২০২৬ -- : -- --

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিতে যা থাকছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম

প্রতীকী ছবি

একশ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তার অবসান ঘটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘মেহের নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় মোট ১৪টি মূল শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করা। এছাড়া চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খসড়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে শুল্কমুক্ত ও বাধাহীন নৌ চলাচল নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও রাখা হয়েছে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা। পাশাপাশি, স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবমুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া দুই দেশ পরমাণু কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে নতুন সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, আটকে থাকা অর্থের অন্তত অর্ধেক ছাড় না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তেহরান চূড়ান্ত আলোচনায় অংশ নেবে না।

তবে আলোচনার বর্তমান কাঠামোয় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

প্রথম ঘোষণা কার?

রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রথম এই সমঝোতার খবর প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় পরিচালিত পরোক্ষ আলোচনার ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, তিনি নিজে অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এছাড়া তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মোট আয়ের ২০ শতাংশের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

Link copied!