বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬ -- : -- --

সেনাবাহিনীর হাতে যাচ্ছে না নোবিপ্রবির মেগা প্রকল্প

নোবিপ্রবি থেকে রাকিব মোহাম্মদ আরজু

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

নোবিপ্রবির একাডেমিক ভবন-৩ এর অসম্পূর্ণ অংশ। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একাডেমিক ভবন-৩ এর অবশিষ্ট অংশ নির্মাণসহ ৩৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সরাসরি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক চিঠিতে প্রকল্পের নির্মাণকাজ উন্মুক্ত দরপত্র (ওপেন টেন্ডার) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সরাসরি এ নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুমোদিত এই মেগা প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন-৩ এর অসম্পূর্ণ অংশের নির্মাণকাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণে এখন প্রকল্পের কাজ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করে বাস্তবায়ন করতে হবে।

এর আগে প্রকল্পের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিতে সোচ্চার হন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ দাবির পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।

নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে পরিচালিত দুই দিনব্যাপী এক অনলাইন জরিপে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী ২ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেন।

জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মতে, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে এবং নির্মাণকাজের গুণগত মানও নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ভবন-৩ এর নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিপরীতে স্থানীয় ঠিকাদারের মাধ্যমেই প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নোবিপ্রবি ডিপিডি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। একটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি এবং অন্যটি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেগা প্রকল্পটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকায় সরাসরি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ থাকছে না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রকল্পের জন্য পরিদর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ৯টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেছে। তবে সেনাবাহিনীর কিংবা অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পেতে হবে সেনাবাহিনীর কোনো প্রতিষ্ঠানকে।

প্রকল্পটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, “ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) নির্মাণকাজ উন্মুক্ত দরপত্রের (ওপেন টেন্ডার) মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি কাজ দেওয়ার বিষয়ে উল্লেখ নেই। আমরা শুরু থেকেই একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আগ্রহী ছিলাম। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী তা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে উপাচার্য মহোদয়কে সঙ্গে নিয়ে আমরা পুনরায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব। কোনো বিকল্প সুযোগ বা সমাধানের পথ রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা গেলে ভালো হতো, কারণ তারা তুলনামূলক দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম।”

টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত যে প্রতিষ্ঠানই কাজ পাক না কেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা। আমরা চলতি মাসেই দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করেছি। এ লক্ষ্যে আমাদের একটি টিম ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াগত কাজ নিয়ে কাজ করছে।”

এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “এ মুহূর্তে কে টেন্ডার পাবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াও এখনো শুরু করা হয়নি। নতুন অর্থবছর থেকে কার্যক্রম শুরু হবে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নোবিপ্রবির অসম্পূর্ণ একাডেমিক ভবন-৩ এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করাসহ মোট ১১টি প্রকল্পের জন্য ৩৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

Link copied!