প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে দুই দেশ ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। সোমবার দেওয়া এ ঘোষণার পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা চুক্তির পূর্ণ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে সোমবার ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। জেনেভা শহরটি জি-৭ সম্মেলনের ভেন্যু ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্র এভিয়ান-লে-বেঁ থেকে প্রায় এক ঘণ্টার পথ দূরে অবস্থিত।
চুক্তির নথি কবে প্রকাশ করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, শুক্রবারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর খুব শিগগিরই তা জনসমক্ষে আনা হতে পারে।
এদিকে মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ এবং কংগ্রেসকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের এই সমঝোতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই চুক্তিতে কী শর্ত রয়েছে, মার্কিন সেনারা এখনও ঝুঁকিতে থাকবেন কি না এবং যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্জন কী।
চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর এক ড্রোন হামলার ঘটনায়। ওই হামলায় একটি গাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে যুদ্ধ বন্ধে যে আলোচনা চলছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি বলে জানা গেছে।
ইরানের ওপর হামলার পরদিন, অর্থাৎ ২ মার্চ থেকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। এরপর থেকে ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও রাজধানী বৈরুতে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
ইরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা তাদের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার একটি মৌলিক শর্ত। তবে ইসরায়েলের অবস্থান হলো, প্রয়োজন হলে তারা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এই চুক্তির অংশ নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং কোনো পক্ষের জন্য একতরফা বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না। ফলে ইরান যদি হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং সংগঠনটি ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান বা শহরগুলোতে হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েল আত্মরক্ষা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার রাখবে।
