প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রোববার পরিচালিত এ হামলায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
হামলার পর বৈরুতের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক রকেট হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, রোববার হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতিকে লক্ষ্য করে তিনটি রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন।
ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির উত্তরাঞ্চলের শোমেরা ও শ্লোমি এলাকার কাছাকাছি স্থানে আঘাত হানে। এর জবাবেই বৈরুতের উপকণ্ঠে বিমান হামলা চালানো হয়।
এর আগে গত সপ্তাহেও বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল। ফলে নতুন এই হামলাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিজবুল্লাহর প্রধান মিত্র ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
এদিকে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এর চূড়ান্ত রূপ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, রোববারের মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ায় লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের কোনো সুস্পষ্ট শর্ত রয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর দুই দিন পর ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। পরে ৪ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
