বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬ -- : -- --

শিক্ষামন্ত্রীর সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে জবিতে অভিনব প্রতিবাদ ছাত্রশক্তির

রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

শিক্ষামন্ত্রীর সামনে জবি ছাত্রশক্তির প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে বাজেট বৈষম্য ও শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ জবি শাখার নেতাকর্মীরা। শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতেই তারা নীরবভাবে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

আজ বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এই ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী, ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীনের বক্তব্যের সময় ছাত্রশক্তির নেতারা প্ল্যাকার্ড হাতে নিজেদের দাবি প্রকাশ করেন। এ সময় কোনো ধরনের বাধা না দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী প্ল্যাকার্ডধারী শিক্ষার্থীদের কাছে ডেকে নিয়ে তাদের প্ল্যাকার্ডগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখেন।

প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল- “বেগম জিয়ার হাতে গড়া দুই দশকের ইতিহাস, বাজেটের পাতায় বৈষম্য আর জবিয়ানদের দীর্ঘশ্বাস”, “রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, সম্পূরক বৃত্তি জবিয়ানদের অধিকার” এবং “যমুনার অঙ্গীকার, রাজস্ব বাজেট বৃদ্ধি জবিয়ানদের অধিকার”।

এ বিষয়ে জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বাজেট বৈষম্যের শিকার। সর্বশেষ ঘোষিত বাজেটেও এই বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যমুনা আন্দোলনের সময় আমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বাড়ানো হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক বৃত্তি চালু করা হবে, যা রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন আমরা দেখছি না। তাই আজ আমাদের এই অভিনব প্রতিবাদ।”

জবি ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অধিকারবঞ্চিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারককে ক্যাম্পাসে পেয়েছি বলেই শিক্ষার্থীদের বঞ্চনার দাবিগুলো প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরেছি।”

এদিকে শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বলেন, “বছরের পর বছর জমে থাকা প্রশ্ন, ক্ষোভ ও প্রত্যাশা আজ শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বাস্তব চিত্র উপস্থাপন করেছি। আশা করি, এই বার্তাগুলো শুধু দেখা বা শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং নীতিগত পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে। দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরে পাক।”

Link copied!