প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৫ এএম
চীনা গবেষকদের নতুন এক উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতের শহরগুলো হয়তো কৃত্রিম আলোর পরিবর্তে জীবন্ত উদ্ভিদের আলোয় আলোকিত হবে। প্রকৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এমন এক ধারণা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে দেশটির একটি জৈবপ্রযুক্তি গবেষণা দল।
‘ম্যাজিকপেন বায়ো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা জিন প্রকৌশল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০টি প্রজাতির উদ্ভিদ তৈরি করেছেন, যেগুলো অন্ধকারে আলো ছড়াতে সক্ষম। এসব উদ্ভিদ নতুন কোনো প্রজাতি নয়; বরং অর্কিড, সূর্যমুখী ও চন্দ্রমল্লিকার মতো পরিচিত গাছের আলোকোজ্জ্বল সংস্করণ।
ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকরা উদ্ভিদের কোষে জোনাকি পোকার জিন এবং জৈব-আলোক উৎপাদনকারী ছত্রাকের জিন যুক্ত করে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এর ফলে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই উদ্ভিদগুলো থেকে নরম আলো নির্গত হচ্ছে।
তবে এই আলো প্রচলিত বৈদ্যুতিক বাতির মতো তীব্র নয়। বরং এটি একটি শান্ত ও পরিবেশবান্ধব আভা তৈরি করে, যা রাতের বাগান বা মৃদু আলোর মতো অনুভূতি দেয়।
গবেষকদের মতে, জোনাকি পোকার জিন ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ভিদের প্রাকৃতিক আলো তৈরির ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ‘ম্যাজিকপেন বায়ো’র প্রতিষ্ঠাতা লি রেনহান এমন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন, যেখানে আলোকোজ্জ্বল পার্ক ও উদ্যানগুলো শহরের প্রচলিত আলোকব্যবস্থার বিকল্প বা সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
এ ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো এবং শহরের রাতের দৃশ্যপটে নতুন পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর আগেও জৈব-আলোক উৎপাদনকারী উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। ২০২৪ সালে ‘ফায়ারফ্লাই পেটুনিয়া’ নামের আলোকোজ্জ্বল গৃহস্থালি উদ্ভিদ বাজারে আসার পর এই প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
যদিও এসব উদ্ভিদের আলো এখনো সীমিত এবং প্রযুক্তিটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও গবেষকদের মতে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মাধ্যমে এগুলো আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
ম্যাজিকপেন বায়োর গবেষণার বিশেষত্ব হলো এর বড় পরিসরের প্রয়োগ পরিকল্পনা। শুধু ঘরের সাজসজ্জা নয়, বরং পুরো পার্ক, উদ্যান ও জনপরিসরকে জীবন্ত আলোয় সাজানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
গবেষকদের কল্পনা অনুযায়ী, একদিন এমন এক পরিবেশ তৈরি হতে পারে যেখানে শহরের বিভিন্ন অংশ উদ্ভিদের নিজস্ব আলোয় আলোকিত হবে। যা অনেকটা কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক চলচ্চিত্রের জীবন্ত আলোকোজ্জ্বল বিশ্বের মতো হতে পারে।
এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে সেই একই জিন সম্পাদনা পদ্ধতি, যা বর্তমানে কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রোগ শনাক্তকরণ, উন্নত ফসল তৈরি এবং বিভিন্ন জৈবিক গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, অন্ধকারে আলো ছড়াতে সক্ষম উদ্ভিদ তৈরি করা এই প্রযুক্তিরই আরেকটি সম্ভাবনাময় প্রয়োগ।
