বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬

বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬ -- : -- --

জুলাই থেকে বদলাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

প্রতীকী ছবি

অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং নিয়ন্ত্রিত করার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। এসব পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ট্রেনিং ভিসাধারী, দক্ষ কর্মী এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।

তাই যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন অথবা ভবিষ্যতে দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য নতুন নিয়মগুলো সম্পর্কে অবগত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষার্থী ভিসা ও আপিল ব্যবস্থায় নতুন প্রক্রিয়া

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তারা সাধারণত প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা ট্রাইব্যুনাল (ART)-এ আপিল করতে পারেন। নতুন ব্যবস্থায় আপিলের ক্ষেত্রে সব সময় সরাসরি শুনানিতে অংশগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ জমা দেওয়া নথি ও প্রমাণপত্র পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।

এর ফলে আগে যেখানে আপিল নিষ্পত্তিতে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেত, সেখানে এখন অপেক্ষাকৃত দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথ ও নির্ভুলভাবে প্রস্তুত রাখা আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৪০৭ ট্রেনিং ভিসার ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি

অস্ট্রেলিয়ার ৪০৭ ট্রেনিং ভিসা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এই ভিসায় অবস্থানরত কর্মী এবং তাদের স্পনসরকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারা সরাসরি কর্মস্থল পরিদর্শন করে যাচাই করছেন যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কর্মপরিবেশ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিসার শর্তাবলি এবং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

রিজিওনাল স্পনসরশিপ ভিসায় বেতনসীমা বৃদ্ধি

আঞ্চলিক বা রিজিওনাল এলাকাগুলোর জন্য ব্যবহৃত সাবক্লাস ৪৮২ এবং ৪৯৪ ভিসার ক্ষেত্রে আগামী জুলাই থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি কর্মী স্পনসর করার জন্য ন্যূনতম বার্ষিক বেতন প্রায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার নির্ধারণ করা হবে।

এই পরিবর্তনের কারণে বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ব্যবসা ও ছোট আকারের আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুনভাবে আর্থিক পরিকল্পনা করতে হতে পারে। কারণ এসব অঞ্চলে সাধারণত বেতনের হার বড় শহরগুলোর তুলনায় কম হয়ে থাকে। ফলে ভবিষ্যতে কর্মী স্পনসর করার আগে নিয়োগদাতাদের আর্থিক সক্ষমতা আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

স্কিল অ্যাসেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় নির্দেশিকা হালনাগাদ

ট্রেড রিকগনিশন অস্ট্রেলিয়া দক্ষ পেশাজীবীদের স্কিল অ্যাসেসমেন্টের নির্দেশিকাগুলোকে আরও সহজবোধ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে। নির্দেশনার ভাষা সরল করা হলেও মূল নিয়ম বা যোগ্যতার মানদণ্ডে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে স্কিল অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হতে প্রায় চার মাস সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

প্যারেন্ট ভিসার কোটা নির্ধারণ

আগামী অর্থবছরের জন্য পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচির আওতায় প্যারেন্ট ভিসার আসনসংখ্যাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কন্ট্রিবিউটিং প্যারেন্ট ভিসা ক্যাটাগরির জন্য ৬ হাজার ৮০০টি স্থান বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সার্বিক মূল্যায়ন

সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো থেকে স্পষ্ট যে অস্ট্রেলিয়া সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও জবাবদিহিমূলক, সুশৃঙ্খল এবং যোগ্য আবেদনকারীবান্ধব করতে চায়। নতুন নিয়মগুলো শুরুতে কিছুটা কঠোর মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি অধিক কার্যকর অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

তাই নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার পরিবর্তে হালনাগাদ তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করা এবং নিয়ম মেনে ধৈর্যের সঙ্গে প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই হবে সফলতার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Link copied!