রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬ -- : -- --
প্রথমবারের মতো শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করছেন কৃতি শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। চারটি শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ে ১০৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ ২০১৭, ২০১৭ ২০১৮, ২০১৮ ২০১৯ এবং ২০১৯ ২০২০ শিক্ষাবর্ষে নিজ নিজ বিভাগে অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও একাডেমিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
চারটি শিক্ষাবর্ষে মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থীকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০১৬ ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ২৪ জন, ২০১৭ ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ২৫ জন, ২০১৮ ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ২৮ জন এবং ২০১৯ ২০২০ শিক্ষাবর্ষে ২৭ জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, "আজকের দিনটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এই ১০৪ জন শিক্ষার্থী তাদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ দিয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে আমাদের তরুণ প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার এই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে এই কৃতি শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে দেশ ও জাতির কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।"
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, "ডিনস অ্যাওয়ার্ড শুধু একটি সম্মাননা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি। যারা কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও মেধার মাধ্যমে এই অর্জন করেছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা তাদের এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখবে।"
সম্মাননা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরাও। আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সুমনাফ আক্তার বলেন, "ডীনস অ্যাওয়ার্ড আমার কাছে শুধু একটি সম্মাননা নয়, বরং দীর্ঘ অধ্যবসায় ও নিরন্তর পরিশ্রমের স্বীকৃতি। আমি এটিকে অর্জনের শেষ প্রান্ত নয়, বরং নতুন দায়িত্বের সূচনা হিসেবে দেখি। এই পথচলায় আমার শিক্ষকবৃন্দ, পরিবার এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবিচল সমর্থন ও প্রেরণা আমাকে সাহস যুগিয়েছে।"
একই অনুভূতি ব্যক্ত করে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এহসান আহমেদ বলেন, "ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। এই সম্মাননা শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আমার পরিবার, শিক্ষক এবং সহপাঠীদেরও প্রেরণার ফল। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাত আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।
এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতা ও কৃতিত্বকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।