আব্দুল্লাহ আর রাফি,গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬ -- : -- --
মানববন্ধন ঘিরে পাটেশ্বরী বাজারে উত্তেজনা। ছবি: ক্যাম্পাস রিপোর্ট
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাটেশ্বরী বাজারে অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, মানববন্ধনের নামে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
জানা যায়, গত ০৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার বিকাল প্রায় ৫টায় পাটেশ্বরী বাজারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের আয়োজক হিসেবে মোঃ মজিদুল ইসলাম খোকনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি অভিযোগ করেন যে, চাঁদপুর থেকে আসমা নামের এক নারীকে এনে রহিম বাদশা, চান মিয়া, আলামিন ও রেনু বেগম তাদের বাড়িতে নারী ব্যবসা, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত রহিম বাদশা। তিনি বলেন, “মানববন্ধনের মূল হোতা মজিদুল ইসলাম খোকন ও তার সহযোগীরা যে অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও অপপ্রচার। নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই তারা এই নাটক সাজিয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার নাম জড়িয়ে মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "মানববন্ধনে কিছু ভাড়াটে লোক এবং এলাকার সহজ-সরল, নিরক্ষর নারী-পুরুষ ও শিশুদের ভুল বুঝিয়ে অংশগ্রহণ করানো হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক, হেরোইন, গাঁজা, নারী ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়, যা তার সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা।"
রহিম বাদশার ভাষ্যমতে, "তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, জুয়া, অবৈধ ক্যাসিনো ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ কারণেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।"
তিনি বলেন,“মাদক, নারী ব্যবসা কিংবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার দূরতম সম্পর্কও নেই। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং কারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তা জনগণের সামনে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে মানববন্ধনে আলোচিত মোছাঃ আসমা আক্তার আশা দাবি করেন, তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখার পর সৈনিক জাহাঙ্গীর আলম প্রতারণা করেন। পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে কথা উঠলে তার কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং একাধিকবার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।
আসমা আক্তার আশা বলেন, “আমাকে বিভিন্নভাবে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। মামলা প্রত্যাহারের জন্য টাকার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। আমি রাজি না হওয়ায় মানববন্ধনের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি ও দেহ ব্যবসার মতো মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি প্রশাসন, সুশীল সমাজ ও দেশবাসীর কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, “রহিম বাদশার নামে কোনোদিন খারাপ কিছু শুনিনি। তিনি একজন সমাজসেবী ও প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে পরিচিত। মাদক বা নারী ব্যবসার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য আমার জানা নেই। একটি কুচক্রী মহল নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে আমার ধারণা।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।