বুধবার ১৭, জুন ২০২৬

বুধবার ১৭, জুন ২০২৬ -- : -- --

লুসাইলের অসমাপ্ত গল্পের নতুন অধ্যায়, মেসি–এমবাপ্পে দ্বৈরথে বিশ্বকাপের নতুন মঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

লুসাইলের অসমাপ্ত গল্পের নতুন অধ্যায়, মেসি–এমবাপ্পে দ্বৈরথে বিশ্বকাপের নতুন মঞ্চ

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক রাত পেরিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত সময়ের গণ্ডি অতিক্রম করে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার রোমাঞ্চকর সেই ফাইনালও ঠিক তেমনই এক অধ্যায়, যার প্রতিধ্বনি আজও শোনা যায় বিশ্ব ফুটবলে।

সেই ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেও শিরোপা জিততে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সকে প্রায় একাই ম্যাচে ফিরিয়ে আনা এই ফরোয়ার্ডের কাছে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি অধরাই থেকে যায়। সম্প্রতি ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা পারিসিয়েন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের কোনো একটি ম্যাচ নতুন করে খেলার সুযোগ পেলে তিনি বেছে নিতেন ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালকে। তাঁর ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষের ২০২২-এর ফাইনালটা। পারলে সেই ম্যাচের ফল বদলে দিতাম।’

তবে অতীত বদলানোর সুযোগ নেই। কিন্তু নতুন বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ রয়েছে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করছেন এমবাপ্পে। তবে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসিও এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে সক্রিয়।

বিশ্বকাপের নতুন আসরে প্রায় কাছাকাছি সময়ে অভিযান শুরু করছে দুই দল। বাংলাদেশ সময় আজ রাত একটায় সেনেগালের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। অন্যদিকে আগামীকাল সকালে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা।

মেসির জন্য এটি কেবল আরেকটি বিশ্বকাপ নয়; বরং ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। কাতারে স্বপ্নপূরণের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর যাত্রা সেখানেই শেষ। কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে আবারও ফিরিয়ে এনেছে বিশ্বমঞ্চে।

৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা এখনো আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দু। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলার বিরল মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। এর মাধ্যমে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কুয়েতের বদর আল-মুতাওয়ার পর ইতিহাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়বেন মেসি।

অন্যদিকে ফ্রান্স দলে এখনো রয়েছেন কাতার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা একাধিক ফুটবলার। তাঁদের অনেকের কাছেই ২০২২ সালের পেনাল্টি শুটআউটের হার এখনো বেদনাদায়ক স্মৃতি। ফলে এবারের বিশ্বকাপ তাঁদের জন্য প্রতিশোধের মঞ্চও হতে পারে।

ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইটাও কম আকর্ষণীয় নয়। পাঁচটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে মেসির গোলসংখ্যা ১৩। অন্যদিকে মাত্র দুটি বিশ্বকাপ খেলেই এমবাপ্পে করেছেন ১২ গোল। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড এখন দুজনেরই নাগালের মধ্যে।

ফুটবলবিশ্ব একসময় মনে করেছিল, কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেই হয়তো মেসি থেকে এমবাপ্পের হাতে ফুটবলের নেতৃত্বের প্রতীকী ব্যাটন হস্তান্তর হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মেসি এখনো মঞ্চ ছাড়েননি। ফলে নতুন বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হতে পারে দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা।

বিশ্বকাপ ২০২৬ তাই শুধু নতুন শিরোপা জয়ের লড়াই নয়; এটি লুসাইলের সেই মহাকাব্যিক রাতের অসমাপ্ত গল্পেরও নতুন অধ্যায়। যেখানে ফুটবলপ্রেমীরা আবারও দেখতে পাবেন মেসি ও এমবাপ্পের শ্রেষ্ঠত্বের অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

Link copied!