নোবিপ্রবি থেকে রাকিব মোহাম্মদ আরজু
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
সোমবার ১৫, জুন ২০২৬ -- : -- --
ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
চলছে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬। বৈশ্বিক ফুটবলের এই মহোৎসবকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস এখন উৎসবের তুঙ্গে। দেয়ালে দেয়ালে রং-তুলির আঁচড়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ফিফা বিশ্বকাপের জনপ্রিয় থিম সং ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ এর রিক্রিয়েশন ভিডিও আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় পর্দায় খেলা দেখার বিশেষ আয়োজন; সব মিলিয়ে নোবিপ্রবি যেন এখন এক টুকরো ফুটবল স্বর্গ। শিক্ষার্থীদের এই বাঁধভাঙা ফুটবল উন্মাদনা আর ক্যাম্পাসের বর্ণিল সব আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর আমেজ।
নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপের এই উৎসবের সূচনাটা হয় পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আগেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও সৃজনশীল বিষয়ক ক্লাব ‘চিত্রকৃৎ’-এর তরুণ শিল্পীরা ক্যাম্পাসের দেয়ালে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলেন ফুটবল ক্যানভাস। গ্রাফিতির মাধ্যমে দেওয়ালে দেওয়ালে স্থান পেয়েছে ফুটবল বিশ্বের জনপ্রিয় সব তারকা ও বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের নান্দনিক প্রতিকৃতি। ঈদের ছুটির আগে আঁকা এই দেয়ালচিত্রগুলো ক্যাম্পাস জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রথম ডিজিটাল ও অন-ক্যাম্পাস উদ্দীপনার জোয়ার তৈরি করে।
দেয়ালচিত্রের সেই রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২রা জুন নোবিপ্রবি ফিল্ম সোসাইটি প্রকাশ করে ফিফা বিশ্বকাপের জনপ্রিয় থিম সং ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ এর একটি চমৎকার রিক্রিয়েশন ভিডিও। ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ইতিমধ্যে ফেসবুক ও ইউটিউব মিলিয়ে ১২ লাখেরও বেশি দর্শক ভিডিওটি উপভোগ করেছেন। ফিল্ম সোসাইটির এই অনন্য সৃষ্টি নোবিপ্রবির ফুটবল আমেজকে ইতিমধ্যে পুরো দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে।
ক্যাম্পাসের এই ফুটবল জ্বর যখন চরমে, তখন শিক্ষার্থীদের যৌথভাবে খেলা দেখার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এরই প্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ডিজিটাল এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখানোর আবেদন জানায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে নোবিপ্রবি প্রশাসন অডিটোরিয়ামের বড় পর্দায় সরাসরি বিশ্বকাপ ম্যাচ সম্প্রচারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ঈদের আগের দেয়ালচিত্র, জুনের শুরুতে ফিল্ম সোসাইটির ভাইরাল ভিডিও এবং সবশেষে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রশাসনের বড় পর্দায় খেলা দেখার এই দারুণ উদ্যোগ, সব মিলিয়ে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস এখন পুরোপুরি তৈরি ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লুফে নিতে।
‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ এর ব্যাপক সাড়া নিয়ে নোবিপ্রবি ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি নাহিদ পারভেজ বলেন, ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণ দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। বিশেষ করে ১৭ ব্যাচ থেকে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তাদের জন্য এটি ক্যাম্পাসে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ উদযাপনের অভিজ্ঞতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, ছাত্রপ্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে খেলা উপভোগ, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো ক্যাম্পাসে এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা সবার জন্যই আনন্দের।
বিশেষভাবে NSTU Film Society এর উদ্যোগে বিশ্বকাপের জনপ্রিয় থিম সং ‘Waving Flag’-এর পুনর্নির্মাণ দেশব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে। এটি শুধু ফিল্ম সোসাইটির সাফল্য নয়, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই গর্বের একটি অর্জন। এই প্রজেক্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অঙ্গনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আমাদের সম্মিলিত সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক শক্তির একটি অনন্য উদাহরণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও সৃজনশীল বিষয়ক ক্লাব ‘চিত্রকৃৎ’ এর সভাপতি শান্তা দেবনাথ বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে, এই উচ্ছ্বাসকে আরও সৃজনশীলভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে আমাদের আর্ট ক্লাব 'চিত্রকৃৎ'-এর পক্ষ থেকে আমরা ক্যাম্পাসে ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গ্রাফিতি অঙ্কনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসের মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করেছি দেয়ালের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে বিশ্বকাপের রঙ, রোমাঞ্চ এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে। একই সাথে এটি ক্যাম্পাসের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত ও শিল্পময় করে তুলেছে।
তবে এই আনন্দ ও উদ্দীপনার মাঝেও আমাদের মনে একটি গভীর স্বপ্ন লুকিয়ে আছে-একদিন আমরা যেন বিশ্বকাপের সেই মহা মঞ্চে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে দেখতে পাই। যেদিন আমরা গর্বের সাথে লাল-সবুজ পতাকা হাতে নিজের দেশকে সমর্থন জানাতে পারব।
বড় পর্দায় খেলা দেখার আবেদন ও অনুভূতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি বিশ্বজুড়ে মানুষের মিলন, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক অনন্য উৎসব। নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসেও আমরা এই উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে নোবিপ্রবি ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ডিজিটাল অডিটোরিয়ামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলা উপভোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন দলের সমর্থকেরা একসঙ্গে বসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিশ্বকাপের উন্মাদনা উপভোগ করতে পারবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন ক্যাম্পাসে পারস্পরিক সম্প্রীতি, অংশগ্রহণ এবং বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপের আমেজ ও সার্বিক বিষয়ে নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, সারা বিশ্বের মত আমাদের ক্যাম্পাসেও ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা চলছে। সুন্দরভাবে খেলা দেখার জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এছাড়াও আবাসিক হলগুলো এবং শিক্ষক ডরমেটরিতে যাতে সুন্দরভাবে খেলা দেখা যায় সে জন্য টিভির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আশা করি শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে ফুলবল বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবে।