প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) এম. কেরামত আলী হলের সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বের জেরে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ও ঘটনা ঘটেছে।
৭ অক্টোবর (বুধবার) ফেসবুক নোটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনায় অন্তত ৩-৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।
পবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ ফেসবুকে "সিনিয়র না হলে মারতাম" এরকম পোস্ট দেন। পোস্টটি তাঁর সিনিয়র সিয়াম আহমেদের নজরে এলে তিনি এটিকে ব্যক্তিগত হুমকি হিসেবে নেন বলে জানা গেছে। এর জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শিব্বিলকে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাতভর বিষয়টির মীমাংসা না হওয়ায় বুধবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে সিয়াম আহমেদ শিব্বিলের কক্ষের দিকে তেড়ে যান এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এতে কক্ষে থাকা এক শিক্ষার্থী আহত হন এবং একটি ল্যাপটপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভোরের ঘটনার জের ধরে দুপুর ২টার দিকে পবিপ্রবির প্যারিস রোডে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সিয়ামের বন্ধু ইফতিকে আটকে রেখে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী সিয়াম ও পলক আহমেদকে সেখানে উপস্থিত হতে বাধ্য করেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয় তাতে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।
ঘটনার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরবর্তীতে এটাকে কেন্দ্র করে আরো বড়ো আকারের সংঘর্ষ বাঁধতে পারে ধারণা করা যাচ্ছে।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শিব্বিল আহমেদ বলেন, "আজ ভোর ৫:৩০ এ কেরামত আলী হলের বি ব্লক ১০৯ নম্বর রুমে ২০২২-২৩ সেশনের সিয়াম লাঠি দিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন করে। জানালার কাচ ভেঙে আমার ব্যাচমেট আসিফ আহত হয়েছেন, ল্যাপটপ নষ্ট হয়েছে।"
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২২-২৩ সেশনের সিয়াম বলেন, "আমার বন্ধু ইফতি কে প্যারিসে আটকে রেখে আমাকে আর আর পলককে প্যারিসে যেতে বাধ্য করে সেখানে শিব্বিল সহ জিয়াউর রহমান হলের ২২-২৩ সেশনের ও ২৩-২৪ সেশনের কয়েকজন ছিল। সেখানে কথা কাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে আমাদের অতর্কিত হামলা করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, "আমরা দুই পক্ষে থেকে জেনেছি, খুব দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরকম ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।"
