প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১২:০৪ এএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রনির্দেশিত সহিংস দমননীতির অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং বেআইনিভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের তথ্য নিশ্চিত করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ওই রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত আক্রমণের অংশ, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।
রায়ে আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও গণবিক্ষোভ রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বা আবেগপ্রবণ হলেও তা রাষ্ট্র বা বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযানে পরিণত না হলে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেছে, এটি ছিল একটি নাগরিক আন্দোলন এবং বেসামরিক জনগণের গণপ্রতিবাদ। এটিকে কোনো সশস্ত্র বা জঙ্গি তৎপরতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রধানত বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন এবং সরাসরি সহিংস কর্মকাণ্ডে যুক্ত হননি। সাংবিধানিক নীতি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে তাঁরা বেসামরিক চরিত্র বজায় রেখেছিলেন।
ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁরা রায়টিকে যথাযথ বলে মনে করছেন এবং আপাতত এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণের কোনো কারণ দেখছেন না। তবে রায়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনার পর প্রয়োজন হলে সাজা বৃদ্ধি বা অন্য কোনো আইনি বিষয়ে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের এই পূর্ণাঙ্গ রায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারিক মূল্যায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
