প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে নতুন জীবন শুরু করা অনেকের জন্য রোমাঞ্চকর হলেও শুরুটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। নতুন পরিবেশ, নতুন নিয়মকানুন এবং দৈনন্দিন নানা আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সামলে নেওয়া গেলে পরবর্তী শিক্ষাজীবন অনেক সহজ হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭টি করণীয় নিচে তুলে ধরা হলো-
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন
দেশে পৌঁছানোর পর প্রথম কাজ হওয়া উচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন শেষ করা। ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অংশ নিলে ক্যাম্পাসের সুবিধা, শিক্ষার্থী সহায়তা সেবা এবং একাডেমিক নীতিমালা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। নতুন বাসার ঠিকানা পরিবর্তন হলে সাত দিনের মধ্যে তা প্রতিষ্ঠানকে জানানোও জরুরি।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন
দৈনন্দিন খরচ, বাসাভাড়া পরিশোধ কিংবা ভবিষ্যতে পার্ট-টাইম চাকরির বেতন গ্রহণের জন্য স্থানীয় ব্যাংক হিসাব থাকা প্রয়োজন। এতে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকিও কমে যায় এবং আর্থিক লেনদেন সহজ হয়।
মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ চালু করুন
স্থানীয় সিম কার্ড বা উপযোগী মোবাইল প্ল্যান সংগ্রহ করে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা, ক্লাস আপডেট বা চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হোন
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে আলাদা ট্রাভেল কার্ড ব্যবহৃত হয়-যেমন: সিডনিতে ‘ওপাল কার্ড’ এবং পার্থে ‘স্মার্টরাইডার কার্ড’। বাস, ট্রেন বা ফেরির রুট ও সময়সূচি জেনে নিলে যাতায়াত পরিকল্পনা সহজ হয়ে যায়।
ক্লাসের প্রস্তুতি নিন
পাঠ্যক্রমের কাঠামো, অ্যাসাইনমেন্ট জমাদানের সময়সীমা, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও বিষয়ভিত্তিক চাহিদা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা রাখা ভালো। প্রয়োজনীয় বই সংগ্রহ ও অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনও সহায়ক।
বাজেট পরিকল্পনা ও কাজের প্রস্তুতি নিন
আবাসন, খাবার, যাতায়াতসহ মাসিক ব্যয়ের একটি পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত। যারা খণ্ডকালীন চাকরি করতে চান, তাদের ট্যাক্স ফাইল নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ান বিজনেস নম্বর (ABN) প্রয়োজন হতে পারে।
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় গুরুত্ব দিন
কাছাকাছি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র কোথায় আছে তা জেনে রাখা এবং জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। মানসিক চাপ অনুভব করলে সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। পাশাপাশি খেলাধুলা বা শরীরচর্চায় অংশ নেওয়া নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম কয়েক সপ্তাহ এই বিষয়গুলো গুছিয়ে নিতে পারলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ব্যক্তিগত জীবন অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস
