সোমবার ০৮, জুন ২০২৬

সোমবার ০৮, জুন ২০২৬ -- : -- --

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ, শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষাকে আরও কর্মমুখী করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘোষণা দিয়েছে, তাদের সব স্নাতক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। বিষয় ইতিহাস, দর্শন বা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-যাই হোক না কেন, এই সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জোট রাসেল গ্রুপ–এর সদস্যদের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যানচেস্টারই প্রথম।

বাস্তব অভিজ্ঞতাকে শিক্ষার অংশ করার পরিকল্পনা

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চায়, শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়ে স্নাতক না হয়ে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাও অর্জন করুক। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্লেসমেন্ট, স্বল্পমেয়াদি ইন্টার্নশিপ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প এবং সামাজিক বা সরকারি খাতের কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে তারা শ্রেণিকক্ষে শেখা জ্ঞান বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে।

এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ খুঁজতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা পরিচিতির ওপর নির্ভর করতে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এসব সুযোগের ব্যবস্থা করবে।

পরিবর্তিত চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় খাতের সংগঠন ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহী ভিভিয়েন স্টার্ন এই পদক্ষেপকে যুগোপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মবাজারে সফল হতে শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই উদ্যোগ সেই প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

স্নাতকদের কর্মসংস্থানে সহায়ক হতে পারে উদ্যোগ

বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করার পরও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে হিমশিম খান। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় বা ঋণের বোঝা বহন করেও তারা প্রয়োজনীয় কর্ম-অভিজ্ঞতার অভাবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। ফলে অনেকে যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি না পেয়ে কম দক্ষতাসম্পন্ন কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হন।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক কর্ম-অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে প্রবেশকে সহজ করতে পারে এবং পেশাগত দক্ষতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

বড় সুযোগ, বড় চ্যালেঞ্জও

৩২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার জন্য মানসম্মত কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা সহজ হবে না। তবু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে দক্ষতার ব্যবধান কমাতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিক হিলম্যান, যিনি হায়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউট–এর পরিচালক, বলেন যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যেই উচ্চশিক্ষায় আসে। কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাদের দায়িত্ব পালন, চাপ মোকাবিলা এবং পেশাগত পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

অন্যদিকে লিবি হ্যাকেট মনে করেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

Link copied!