মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১১:১১ পিএম
শনিবার ১৩, জুন ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত ছবি
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে মুজিবুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর রাত ৯টা পর্যন্ত নিহত মুজিবুর রহমানের মরদেহ সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় অংশে পড়ে ছিল। লাশ ফেরত আনার জন্য বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।”
শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, “খবর নিয়ে জানতে পেরেছি নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে।”
এ বিষয়ে ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, “সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিএসএফের সাথে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ ফেরত ও প্রতিবাদ জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়।
এদিকে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হতাহতের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের তথ্য অনুযায়ী, কুলাউড়া-কমলগঞ্জ সীমান্তে প্রায়ই বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে সীমান্তে অন্তত ৩১ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের বৈঠকে বারবার প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা থেমে নেই। ফলে সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি নতুন করে জোরালো হচ্ছে।