প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠে দারুণ সূচনা করল যুক্তরাষ্ট্র। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন ফোলারিন বালোগুন। একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকটিও হতে পারত তার।
শুরুর বাঁশি বাজতেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় মিনিটেই লম্বা কিক-অফ থেকে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে তারা। তৃতীয় মিনিটে ওয়েস্টন ম্যাককেনির পাস থেকে সুযোগ পেলেও বালোগুনের শট ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল।
সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাককেনির দারুণ মুভ থেকে বল যায় ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের কাছে। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি আবার ম্যাককেনিকে বল বাড়ান। সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার ডামিয়ান বোবাদিয়া; নিজের জালেই বল জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে। ১৪ মিনিটে হুলিও এনসিসো দূরপাল্লার শট নিলেও বল পোস্টের বাইরে চলে যায়। ১৬ মিনিটে বালোগুন ও সের্হিনিও ডেস্টের সমন্বয়ে আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়, তবে শেষ মুহূর্তে গুসতাভো গোমেজ বিপদ সামাল দেন।
২৮ মিনিটে বালোগুন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ৩১ মিনিটে আর সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। পুলিসিকের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে গিলকে পরাস্ত করেন বালোগুন, ব্যবধান হয় ২-০।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজছিল প্যারাগুয়ে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। ৪৩ মিনিটে মালিক টিলম্যানের কাছ থেকে শট নিলেও দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন গিল।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আসে তৃতীয় গোল। ৪৫+৫ মিনিটে টিলম্যানের নিখুঁত পাস ধরে ডিফেন্স ভেঙে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বালোগুন। তাতে বিরতিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য স্পষ্ট-বল দখলে ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। পুলিসিক একটি অ্যাসিস্ট করেন, ম্যাককেনি মাঝমাঠে প্রভাব বিস্তার করেন এবং জোড়া গোল করে বালোগুন ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন।
প্যারাগুয়ের হতাশা শুরু হয় ১০ মিনিটেই, যখন হুয়ান কাসেরেস পুলিসিককে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। এরপর আত্মঘাতী গোল ও রক্ষণভাগের ভুলে আরও চাপে পড়ে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখাতেও ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ৯৬ বছর পর আবারও একই ব্যবধানে জিতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল স্বাগতিকরা।
