শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

শনিবার ১৩, জুন ২০২৬ -- : -- --

প্যারাগুয়েকে হারিয়ে উড়ন্ত শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

ছবি: সংগৃহীত

শক্তি ও পরিসংখ্যান, সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাঠের পারফরম্যান্সেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। বিশ্বকাপের গ্রুপ ডি’র ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে শনিবার প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্বাগতিকরা। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে জোড়া গোল করেন ফোলারিন বালোগুন।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র মুখোমুখিতে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ৯৬ বছর পর আবারও জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই কিক-অফ থেকে লম্বা বল পাঠিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে তারা। তৃতীয় মিনিটে ওয়েস্টন ম্যাককেনির পাস থেকে সুযোগ পান বালোগুন, তবে তার শট ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল।

তবে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাককেনির দারুণ আক্রমণ থেকে বল পান ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। তিনি দুই ডিফেন্ডার কাটিয়ে ম্যাককেনিকে পাস দেন। ম্যাককেনির শট ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন প্যারাগুয়ের ডামিয়ান বোবাদিয়া, আর বল চলে যায় নিজেদের জালে। ফলে আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

গোল খাওয়ার পর কিছুটা আক্রমণ বাড়ায় প্যারাগুয়ে। ১৪ মিনিটে হুলিও এনসিসো দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করলেও বল সামান্য ব্যবধানে বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও আক্রমণ অব্যাহত রাখে। ১৬ মিনিটে বালোগুন ও সের্হিনিও ডেস্টের সমন্বয়ে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ তৈরি হলেও গুসতাভো গোমেজ শেষ মুহূর্তে রক্ষা করেন।

২৮ মিনিটে বালোগুন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। তবে তিন মিনিট পরই সঠিক সময়ে সাফল্য আসে। ৩১তম মিনিটে পুলিসিকের নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ে শটে গোল করেন বালোগুন। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

দুই গোল পিছিয়ে পড়েও প্যারাগুয়ে চেষ্টা চালিয়ে যায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠিত রক্ষণ তাদের বেশি সুযোগ দেয়নি। ৪৩ মিনিটে মালিক টিলম্যানের শট অসাধারণ সেভে রক্ষা করেন গিল।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও গোল পায় যুক্তরাষ্ট্র। ৪৫+৫ মিনিটে টিলম্যানের চমৎকার পাস থেকে ডিফেন্স ভেঙে গোল করেন বালোগুন। এতে তার জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। প্রায় ৭০ শতাংশ বল দখলে রেখে তারা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। পুলিসিক একটি অ্যাসিস্ট করেন এবং ম্যাককেনি আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। একের পর এক আক্রমণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারছিল না তারা। অবশেষে ৭৩তম মিনিটে মাওরিসিওর গোলে একটি গোল শোধ করে প্যারাগুয়ে।

এরপরও ম্যাচে চাপ ধরে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত সময়ে এসে আবারও গোল পায় তারা। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন গিওভান্নি রেইনা। এরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে ৪-১ গোলের বড় জয়ে বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা করে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

Link copied!