প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন এক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন এক হাজার ৫৬৯ দিনে পৌঁছেছে, যা সময়ের হিসেবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্বকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, যুদ্ধটি যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই এটি ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও প্রভাবশালী সামরিক সংঘাতে পরিণত হচ্ছে। জনমত জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ইউক্রেনীয় মনে করেন, যুদ্ধ শিগগির শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং এটি আগামী বছর পর্যন্তও গড়াতে পারে।
এমন পরিস্থিতি যুদ্ধের সময়কালকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়সীমার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে, যদিও দুই সংঘাতের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বিস্তৃতি এক নয়।
দ্রুত বিজয়ের আশা থেকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ
২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর সময় দ্রুত বিজয়ের প্রত্যাশা করেছিল মস্কো। রুশ বাহিনী অল্প সময়ের মধ্যেই রাজধানী কিয়েভ দখলের লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হয়েছিল। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীর শক্ত প্রতিরোধে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
পরবর্তীতে রুশ সেনাদের কিয়েভের আশপাশ থেকে সরে যেতে হয় এবং সংঘাতটি দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির যুদ্ধে রূপ নেয়। এরপর থেকে উভয় পক্ষই প্রায় একই রণাঙ্গনে অবস্থান ধরে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
নিজেকে শুধু ‘ফ্রান্স’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ইউক্রেনীয় সেনা বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম যুদ্ধ হয়তো দুই বা তিন বছর চলবে, তারপর রাজনীতিবিদরা কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবেন।’
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে মিল কোথায়?
ইতিহাসবিদ ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির যুদ্ধরেখা, পরিখাভিত্তিক প্রতিরক্ষা এবং গোলন্দাজ বাহিনীর ব্যাপক ব্যবহার দুই যুদ্ধের মধ্যে সাদৃশ্য তৈরি করেছে।
সাবেক ফরাসি কর্নেল ও সামরিক ইতিহাসবিদ Michel Goya বলেন, ‘যখন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র দীর্ঘ সময় স্থবির হয়ে যায়, তখন তা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়।’
