প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তার প্রচারক এরিকা বোল্টন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার লন্ডনের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন-যা ছিল তার ৮৯তম জন্মদিনের প্রায় এক মাস আগের ঘটনা।
ষাটের দশকে পপ আর্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে হকনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। আধুনিক চিত্রকলার ভাষা বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিয়মিতভাবে ছবি আঁকা ও প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া চালিয়ে গেছেন। গত অক্টোবর মাসে দেওয়া তাঁর শেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মানুষের কাছে কিছু বলার আছে বলেই তিনি কাজ করে যেতে চান।
যুক্তরাজ্য সরকার ১৯৯৭ সালে তাকে ‘কম্প্যানিয়ন অব অনার’ খেতাবে ভূষিত করে। চলতি বছরের শুরুতে তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাও লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শিল্প ইতিহাসবিদ রিচার্ড মরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেন, হকনি জটিল শিল্পকর্মকে সহজ ও বোধগম্য করে তুলতে পারতেন-এটি শিল্পজগতের জন্য এক বড় ক্ষতি।
পম্পিদো সেন্টারে ১৯৯৯ ও ২০১৭ সালে তার কাজ প্রদর্শিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি তার সৃষ্টিকে ‘উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ও চিরস্থায়ী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০১৮ সালে তার আঁকা ‘পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট’ নিউইয়র্কে ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়, যা তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যেরও প্রতিফলন।
১৯৩৭ সালে উত্তর ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ডে জন্ম নেওয়া হকনি ছোটবেলা থেকেই শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি পরে লন্ডনের রয়্যাল কলেজে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে স্বর্ণপদকসহ স্নাতক সম্পন্ন করেন। প্রতিষ্ঠানটি তাকে আজীবন শিল্পজগতের এক প্রভাবশালী ও স্বতন্ত্র কণ্ঠ হিসেবে স্মরণ করেছে।
শেষ দিকের সাক্ষাৎকারে হকনি বলেছিলেন, তিনি ছবিতে বাস্তবতার কাছাকাছি যেতে চেষ্টা করেন, তবে অন্যরা কী ভাবছে তা নিয়ে তিনি খুব একটা চিন্তিত নন। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিজের শিল্পভাবনা প্রকাশ করা এবং ছবি আঁকার সময়ই তিনি সবচেয়ে বেশি আনন্দ অনুভব করতেন।
