প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
এ.এস.এম হামিদ হাসান,কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) ।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর পুরোনো বন্ধুদের হাতছানি। কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে কৈশোরের সেই সোনালী দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৭ সালের এসএসসি ব্যাচের বন্ধুদের উদ্যোগে এমনই এক আবেগঘন ও আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো ‘ঈদ পুনর্মিলনী ২০২৬’।
গত ২৯ মে (শুক্রবার) সকাল থেকেই উপজেলার মুমুরদিয়া বত্তিহাটা বিল সংলগ্ন আব্দুর রহমান রাজনের ফিসারিতে শুরু হয় এই মিলনমেলার আনুষ্ঠানিকতা। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ব্যাচের ৪২ জন বন্ধু। বছরের পর বছর পেরিয়ে দেখা হওয়ায় অনুষ্ঠানস্থল রূপ নেয় এক টুকরো স্মৃতির ক্যানভাসে।
বর্ণাঢ্য ও নান্দনিক এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা হিসেবে ছিলেন মেহেদী হাসান ও নুরুল হক।
দিনব্যাপী এই উৎসবকে প্রাণবন্ত ও মুখরিত করে রাখেন কটিয়াদী পৌরসভার টিকাদানকারী মোঃ হারুন অর রশিদ (আলী), আব্দুর রহমান রাজন, মোঃ সোহেল, রাকিব আহমেদ, আতিকুল ইসলাম আতিক, সুমন মিয়া, ডাঃ আমিনুল ইসলাম, ডাঃ সাজ্জাদ হোসেন, মাস্টার সাজ্জাদ হোসেন বাবু, জুয়েল সাহা, সজীব সাহা, সমিত পাল, মোঃ কাউছার, মোঃ কাশেম, মোঃ ইকবাল, জুনায়েদ শানু, মোঃ ইয়াছিন, রামিম ইসলাম সজল, মোঃ শফিকুল, ইমরান অভি, আরেফিন, ইঞ্জিনিয়ার জুবায়ের হোসেন রুবেল, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আল মামুন, বুলবুল ইসলাম, শিমুল মৃধা, প্রমিত বণিক ও মুন্না লাল সাহাসহ আরও অনেকে।
ভিন্নধর্মী আয়োজন ও ভূরিভোজ:
আড্ডা আর স্মৃতিরোমন্থনের পাশাপাশি এই আয়োজনে ছিল ভিন্নধর্মী ছোঁয়া। বাইরের কোনো ক্যাটারিং নয়, বরং বন্ধুরা মিলে নিজেরাই মেতেছিলেন রান্নাবান্নায়। সকালের নাশতায় পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী খিচুড়ি। আর দুপুরে ছিল ভাত, মুরগির মাংস, ডাল ও ডিমের জিভে জল আনা সমাহার।
হারানো বন্ধুদের স্মরণ:
আনন্দের এই মহতী মুহূর্তে বন্ধুরা ভুলে যাননি তাদের হারিয়ে যাওয়া সহপাঠীদের। আয়োজকরা অত্যন্ত আবেগভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, তাদের ব্যাচের যে ৩ জন বন্ধু ইতোমধ্যে পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন, তাদের স্মরণে ও আত্মার মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠানে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর এমন একটি সফল আয়োজন করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত সকলেই। তারা জানান, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে পুরোনো বন্ধুদের এই সান্নিধ্য তাদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে। আগামী দিনগুলোতেও যেন বন্ধুত্বের এই সুদৃঢ় বন্ধন অটুট থাকে, সেই আশাবাদ ও পুনরায় মিলিত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
