প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার প্রায় ১০২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে চামড়া পাচার প্রতিরোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শিকারপুর, কাশিপুর, গোগা, রুদ্রপুর, অগ্রভুলোট, পাঁচভুলোট, দাঁদখালি, পুটখালি, দৌলতপুর, সাদিপুর, রঘুনাথপুর ও ঘিবা সীমান্তকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে মাইকিং কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। ঈদের পরবর্তী সময়ে চোরাচালান, পুশইন, চামড়া পাচারসহ বিভিন্ন সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে যশোর ৪৯ ও খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান এবং খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে কোরবানির মৌসুমে বিপুল পরিমাণ পশু জবাই হয়। ফলে কোরবানির পর সংগৃহীত চামড়া যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচার না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, সীমান্তে পুশইন, মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে যে কোনো ধরনের অপরাধ দমনে টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান বলেন, দৌলতপুর, পুটখালি, গোগা, রুদ্রপুর, দাঁদখালি, পাঁচভুলোট ও অগ্রভুলোট সীমান্তসংলগ্ন ইছামতি নদীপথকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। নদীপথ ব্যবহার করে চামড়া পাচারের আশঙ্কা মাথায় রেখে সেখানে অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, যশোর সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সব সীমান্ত ফাঁড়িকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন বিকেল থেকেই অতিরিক্ত টহল কার্যক্রম শুরু হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, এ বছর কোরবানির পশুর সংখ্যা কিছুটা কম হলেও চামড়ার মূল্য, লবণের বাড়তি দাম, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া পরিশোধে অনীহা এবং অর্থসংকটের কারণে পাচারের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
