প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে পুরো পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও ত্রুটির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বর্তমান পরীক্ষার ফল বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রায় ৫৩ হাজার প্রার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে সারা দেশে এসব পদে ১১ হাজার ১৫০টি শূন্য পদ রয়েছে এবং নতুন পদ্ধতিতে সেগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে। আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো। সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে এখন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নিবন্ধিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, নিবন্ধন সনদ অর্জন মানেই চাকরির নিশ্চয়তা নয়; এটি কেবল একজন প্রার্থীর যোগ্যতার স্বীকৃতি। ২০০১ সালে তার দায়িত্বকালেই শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে শিক্ষকতাকে একটি পেশাদার কাঠামোর আওতায় আনতেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। চিকিৎসক, হিসাবরক্ষক বা অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো শিক্ষকদেরও নির্দিষ্ট মানদণ্ডে মূল্যায়নের লক্ষ্য ছিল এর পেছনে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, অতীতে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতেন এবং পরিচালনা কমিটি নিয়োগ দিত। কিন্তু সেই ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ ছিল। বর্তমানে পরিচালনা কমিটির সেই ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং শূন্য পদে সরাসরি এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, নিয়োগের পর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি নিয়োগের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এক অঞ্চলের শিক্ষককে দূরবর্তী অন্য অঞ্চলে নিয়োগ দিলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে শিক্ষক বদলির সুযোগও রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষক বদলির পুরো কার্যক্রম সফটওয়্যারভিত্তিক করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রভাব, হস্তক্ষেপ বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ না থাকে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বদলি সম্পন্ন হবে। একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে অন্যান্য শিক্ষকদের বদলিও পরিচালিত হবে।
তদবিরের সুযোগ থাকবে কি না?-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুরোধ বা তদবিরের চেষ্টা বাস্তবে থাকতেই পারে। তবে একবার স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা চালু হলে কোনো তদবিরই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না। কারণ পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত নীতিমালা ও প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও বদলি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে সরকার শতভাগ বেতন প্রদান করছে। উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং চলতি বছরে আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটি শতভাগে উন্নীত করা হবে। এছাড়া বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাও ধাপে ধাপে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এসব সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের কর্মস্থল নির্ধারণ ও বদলির ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
