প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তার এ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। জানা গেছে, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
সমালোচনার মুখে পরে নিজের মন্তব্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন ববি হাজ্জাজ। তবে তার দাবি, পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে উপস্থাপিত ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব মন্তব্য ছিল তার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত, যা সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি বা অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না। ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শীর্ষক এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, “SameerScane” নামের একটি পডকাস্টে দেওয়া তার কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মতে, বক্তব্যের একটি অংশ সঠিকভাবে অনুধাবন করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, আলোচিত মন্তব্যগুলো সম্পূর্ণরূপে তার ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশ এবং এগুলোর সঙ্গে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থানের সম্পর্ক নেই।
ববি হাজ্জাজ জানান, তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আনাই ছিল তার লক্ষ্য।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্লেজারিজমসহ বিভিন্ন অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব প্রবণতার তিনি সমালোচনা করেন এবং মনে করেন, একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন চর্চার কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, পডকাস্টটি ছিল একটি অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আলাপচারিতা। এটি কোনো গবেষণানির্ভর বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। আনুষ্ঠানিক পরিসরে এ বিষয়ে কথা বললে বক্তব্যের উপস্থাপনাও আরও সুসংগঠিত ও নির্দিষ্ট হতো।
ফেসবুক পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতি গঠনে ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ববি হাজ্জাজ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও আরও শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নেতৃত্বও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে তার বিশ্বাস। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও গবেষণানির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, এমন একটি একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে সততা, মেধা, গবেষণার মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। একই সঙ্গে প্লেজারিজমসহ যেকোনো অনৈতিক একাডেমিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে ববি হাজ্জাজ বলেন, তার বক্তব্যের আংশিক অংশ ভুল বোঝাবুঝির জন্ম দিয়েছে এবং অনেক মানুষ এতে কষ্ট পেয়েছেন। এ কারণে তিনি মন্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন এবং আশা করছেন, এর মাধ্যমে এ বিষয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটবে।
