মোঃ শোয়েব বিন জামান। রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
শনিবার ০৯, মে ২০২৬ -- : -- --
কামরুজ্জামান।ক্যাম্পাস রিপোর্ট
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের (৬ সিরিজ) সাবেক শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান লিটন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেসলায় যোগ দিয়ে রুয়েটিয়ানদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গড় সিজিপিএ নিয়েও বৈশ্বিক পরিসরে নিজের দক্ষতা, অধ্যবসায় ও ইতিবাচক মানসিকতার মাধ্যমে বড় অর্জন সম্ভব লিটনের সাম্প্রতিক সাফল্য যেন সেই বাস্তবতাকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
রুয়েট থেকে তুলনামূলক সাধারণ একাডেমিক ফলাফল নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা লিটন জানান, শিক্ষাজীবনের এক পর্যায়ে তাঁর কাছেও মনে হয়েছিল ভালো সিজিপিএ-ই হয়তো ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও পেশাজীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করায়, বাস্তব জীবনে সাফল্যের সমীকরণ অনেক বিস্তৃত যেখানে কেবল ফলাফল নয়; বরং দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
নিজের পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, জীবনের প্রতিটি ধাপে আসা সুযোগকে ইতিবাচক মানসিকতা, শেখার আগ্রহ এবং পূর্ণ উদ্যম নিয়ে গ্রহণ করার চেষ্টা করেছেন। উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে পেশাগত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নতুন কিছু শেখা, নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলা এবং প্রাপ্ত সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর মানসিকতাই তাঁর যাত্রাপথকে তুলনামূলকভাবে মসৃণ করেছে।
লিটনের মতে, সাময়িক ব্যর্থতা কিংবা গড়পড়তা সিজিপিএ কখনোই একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার চূড়ান্ত পরিচয় নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন, যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিকতা এই চারটি বিষয়ই সাফল্যের শক্ত ভিত গড়ে তোলে। তিনি মনে করেন, জীবনের বড় সুযোগ অনেক সময় অপ্রত্যাশিতভাবে আসে; তবে সেই সুযোগ গ্রহণের জন্য নিজেকে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হয়।
রুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থী ও জুনিয়রদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা তাই স্পষ্ট সিজিপিএ নিয়ে অতিরিক্ত হতাশ না হয়ে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ সাফল্যের পথ কেবল ফলাফলের কাগজে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা নির্মিত হয় প্রস্তুতি, অধ্যবসায় এবং নিরবচ্ছিন্ন আত্মোন্নয়নের মাধ্যমে।
টেসলায় কামরুজ্জামান লিটনের সাম্প্রতিক যোগদান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি রুয়েটিয়ানদের জন্যও গর্বের এক অনন্য উপলক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, গড় একাডেমিক ফলাফল নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব যদি থাকে শেখার আগ্রহ, সঠিক প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম এবং সুযোগকে কাজে লাগানোর সক্ষমতা।
রুয়েটের তরুণ প্রজন্মের জন্য লিটনের গল্প তাই শুধু সাফল্যের সংবাদ নয়; বরং এটি একটি শক্তিশালী বার্তা নিজেকে কখনো ছোট করে দেখো না। কারণ সাফল্যের পথ শুধু সিজিপিএ দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং তা গড়ে ওঠে দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ভিত্তিতে।