তারেক পাশার সৌরভ,বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮ মে ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
শনিবার ০৯, মে ২০২৬ -- : -- --
সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন উত্তপ্ত পরিস্থিতি
শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, ক্যাম্পাসে ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাধা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং উপাচার্যের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ধরে উপাচার্যের পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বক্তব্য চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং উপাচার্যের অনুসারী হিসেবে পরিচিত একটি দল অতর্কিতভাবে সেখানে হামলা চালায় এবং সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। পাশাপাশি ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি, উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা এবং যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা বর্তমান উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম বলেন, "আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার শিকার হচ্ছি। উপাচার্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সাতটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আজ কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, উপাচার্যকে বাঁচাতে তার অনুসারী বাহিনী এবং স্বয়ং প্রক্টর আমাদের ওপর চড়াও হন। তারা আমাদের গায়ে হাত দিয়ে এবং সফলভাবে 'মব' সৃষ্টি করে সংবাদ সম্মেলনটি বন্ধ করে দেন।"
সিয়াম আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "প্রশাসন আমাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো হামলা বা মব করে আমাদেরকে সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে সরানো যাবে না"।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, "সাবেক শিক্ষার্থী ইমরান যখন আসে তখন ঝামেলাটা হয়। ইমরান না আসলে কিছুই হতো না।বর্তমান যারা শিক্ষার্থী আছে তাদের যে কোন আন্দোলন করার অধিকার আছে। উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে প্রমাণিত নয়। অভিযোগ করা হয়েছে।"