প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
মো: মোস্তাফিজার রহমান
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষক শহীদুল ইসলাম গত মার্চে তাঁর তিন বিঘা জমির আলু তুলেছিলেন স্বপ্নচোখে। বাম্পার ফলন। হিসাব করেছিলেন মেয়েকে শহরে রেখে পড়াতে পারবেন। কিন্তু হাটে গিয়ে দাম শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল তাঁর। প্রতি কেজি মাত্র দশ টাকা। উৎপাদন খরচ ছিল বিশ টাকার কাছাকাছি।
শহীদুল ইসলাম বললেন, 'চাষের খরচ দ্বিগুণ হয়েছে, কিন্তু সরকারি হিসাবে তা উঠে আসছে না।' সেই একই আলু ঢাকার কারওয়ান বাজারে সেদিনই বিক্রি হচ্ছিল চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টাকায়। মাঝখানে মুনাফা গেল ফড়িয়া আর পাইকারের পকেটে আর কৃষকের হাতে রইল শুধু ক্ষতির হিসাব। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্পদসমৃদ্ধ এলাকা। রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলাকে নিয়ে গঠিত এই বৃহত্তর অঞ্চলে বছরের প্রতিটি মৌসুমে ধান, গম, ভুট্টা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, আখ, সবজি-তরিতরকারী এবং বিভিন্ন ফলমূলের ব্যাপক চাষাবাদ হয়। পাশাপাশি মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগির খামার এবং গবাদিপশু পালনেও এই অঞ্চল দেশের কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
কৃষি উৎপাদনে এই অঞ্চল মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও একটি গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বৈপরীত্য এখানকার কৃষকদের জীবনকে বারবার ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়—আর তা হলো কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। বিগত তিন দশকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি সত্ত্বেও বহু মধ্যস্বত্বভোগী, দুর্বল বাজার কাঠামো এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অভাবে কৃষকেরা তাদের পরিশ্রমের ফসল ঘরে তুলতে পারেন না। কৃষি কাজ করে এই অঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলো তাদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে পেরেছেন এ ধরনের দৃষ্টান্ত হাতেগোন।
এটা যুগ যুগ ধরে চলা একটা সংকট। এই সংকট নিরসনে শুধু কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, প্রয়োজন একটি সমন্বিত আর্থিক কাঠামো যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাস্তব ভিত্তিক নীতিগত নির্দেশনা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ একসঙ্গে কাজ করবে।
রংপুর অঞ্চলের কৃষি: উৎপাদনের সাফল্য, ন্যায্যমূল্যের ব্যর্থতা
রংপুর অঞ্চলে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মেট্রিক টন কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। আলু, ভুট্টা, পেঁয়াজ, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি এবং বোরো ধানে এই অঞ্চল বাংলাদেশের শীর্ষ উৎপাদক এলাকাগুলোর মধ্যে প্রধানতম। বিশেষত রংপুর, ঠাকুরগাঁওয়ের আলু এবং গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়ের ভুট্টা জাতীয় বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
কিন্তু এই বিপুল উৎপাদনের পরেও কৃষক দারিদ্র্যের চক্রে আবদ্ধ থাকছেন কেন? কারণগুলো পরস্পর সংযুক্ত। প্রথমত, উৎপাদন মৌসুমে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের দাম ধসে পড়ে। দ্বিতীয়ত, আলু ছাড়া অন্যান্য কৃষিপণ্যের কোল্ড স্টোরেজের অপ্রতুলতা ও ব্যয়বহুলতার কারণে কৃষক পণ্য উৎপাদনের পরপরই বিক্রি করতে বাধ্য হন, সুবিধাজনক সময় বা ন্যায্যমূল্য পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন না। তৃতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগীদের দীর্ঘ শৃঙ্খলের কারণে চূড়ান্ত ভোক্তামূল্যের অতি ক্ষুদ্র অংশই কৃষকের হাতে পৌঁছায়। চতুর্থত, কৃষকের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ না থাকায় ঋণের প্রয়োজনে তিনি মহাজন বা এনজিওর উপর নির্ভরশীল হন, যেখানে সুদের হার অত্যন্ত বেশি।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃষকের আর্থিক ক্ষমতায়ন—উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা: নীতিনির্ধারণ থেকে বাস্তবায়ন
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের আর্থিক নীতির মূল নিয়ন্ত্রক। রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের সুরক্ষায় তারা নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নিতে পারে:
১. কৃষিঋণ নীতির পুনর্বিন্যাস
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে কৃষিঋণ নীতিমালার আওতায় ব্যাংকগুলোকে কৃষি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত এবং বাধ্য করছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ঋণের বড় অংশ যাচ্ছে বড় কৃষি ব্যবসায়ী বা ফড়িয়াদের কাছে, প্রান্তিক কৃষক পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আরও সুনির্দিষ্ট করা—বিশেষত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আলাদা উপ-লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা।
২. ডিজিটাল কৃষি ফাইন্যান্সিং উদ্যোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক একটি 'ডিজিটাল এগ্রি-ফিন' কাঠামো তৈরি করতে পারে, যেখানে কৃষকের ডিজিটাল লেনদেনের তথ্যকে ক্রেডিট স্কোরিংয়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই স্কোরিং সিস্টেম তৈরিতে এমএফএস (মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস), ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস এবং ব্যাংকের মধ্যে তথ্য-বিনিময়ের কাঠামো দাঁড় করানো দরকার।
৩. রিফাইন্যান্সিং স্কিম
কৃষিভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিনিয়োগকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক কম সুদে এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিনা সুদে পুনঃঅর্থায়ন দিতে পারে। এটি ব্যাংকগুলোকে কৃষকদের আরও কম সুদে ঋণ দিতে উৎসাহিত করবে।
৪. রংপুর অঞ্চলে বিশেষ কৃষি ব্যাংকিং জোন
বাংলাদেশ ব্যাংক উত্তরবঙ্গ, বিশেষত রংপুর বিভাগকে 'কৃষি ব্যাংকিং অগ্রাধিকার অঞ্চল' হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। এই অঞ্চলে কর্মরত ব্যাংকগুলোকে কৃষিঋণ বিতরণে অতিরিক্ত উৎসাহমূলক সুবিধা দেওয়া যেতে পারে, যেমন ঋণবীমা, সুদ মওকুফ, সিআরআর-এসএলআরে ছাড়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বহুমুখী ভূমিকা
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শুধু অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান নয়-তারা হতে পারে কৃষকের ডিজিটাল রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর সহযোগী। যেসব ব্যাপারে ব্যাংকগুলো এগিয়ে আসতে পারে:
১. কৃষিভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন
যেসব প্রযুক্তি স্টার্টআপ কৃষিপণ্য অনলাইন বিপণনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে, তাদের জন্য ভেঞ্চার ফান্ডিং বা সহজ শর্তের ব্যবসায়িক ঋণ প্রদান করতে পারে ব্যাংকগুলো। রংপুর অঞ্চলের উৎপাদকদের সাথে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ বা চট্টগ্রামের ক্রেতাদের সরাসরি সংযুক্ত করার প্ল্যাটফর্মগুলো এই অর্থায়নের মাধ্যমে দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারবে। প্রান্তিক ক্রেতা ও প্রান্তিক বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ ঘটলে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।
২. কৃষকের জন্য বিশেষ ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট ও ওয়ালেট
বাংলাদেশের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বা অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাঠানো, ক্যাশ-ইন বা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে কৃষককে সরাসরি পণ্যের মূল্য প্রদান নিশ্চিত করা যায়। এতে নগদ অর্থের ঝুঁকি কমে এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা আসে। ব্যাংকগুলো কৃষকদের জন্য বিশেষ 'কৃষক অ্যাকাউন্ট' চালু করতে পারে—যেখানে ন্যূনতম ব্যালেন্সের শর্ত নেই, লেনদেনে ফি নেই এবং কৃষি মৌসুমভিত্তিক ওভারড্রাফট সুবিধা আছে।
৩. ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং ও সহজ ঋণপ্রাপ্তি
বর্তমানে অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষক আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকায় যথাযথ জামানত বা জামিনদার ছাড়া তাদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পাওয়া কঠিন। ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসে কৃষকের বিক্রয় ইতিহাস, মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন এবং ফসলের তথ্য ব্যবহার করে একটি ডিজিটাল আর্থিক প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব। এই প্রোফাইল ব্যবহার করে ব্যাংক দ্রুত ও সহজে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারবে এবং জামানাতমুক্ত ঋণ দিতে পারবে।
৪. সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সিং
কৃষক থেকে শুরু করে পাইকার, পরিবহনকারী এবং খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে আর্থিক সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে পারে ব্যাংকগুলো। এই মডেলে কোনো বড় পাইকার বা প্রতিষ্ঠান যখন কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনতে চায়, ব্যাংক আগেই কৃষককে পেমেন্ট করে দিতে পারে এবং পাইকারের কাছ থেকে পরে অর্থ সংগ্রহ করে। এই 'ইনভয়েস ডিসকাউন্টিং' পদ্ধতিতে কৃষক সময়মতো তার পাওনা পান এবং নগদ প্রবাহ ঠিক থাকে।
৫. কোল্ড স্টোরেজ ও সংরক্ষণ অবকাঠামোতে অর্থায়ন
রংপুর অঞ্চলে আলুর জন্য বেশ কিছু কোল্ড স্টোরেজ থাকলেও সবজি বা ফল সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজের অভাব কৃষকের ক্ষতির অন্যতম কারণ। ব্যাংকগুলো সমবায় ভিত্তিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এবং লিজ ফাইন্যান্সিং দিতে পারে। এতে একদল কৃষক মিলে একটি স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারবেন, যা তাদের ন্যায্য বাজারদরে পণ্য বিক্রির সুযোগ বাড়াবে।
৬. ফসল বীমার সাথে সংযুক্তি
ব্যাংকগুলো তাদের কৃষিঋণের সাথে বাধ্যতামূলকভাবে ফসল বীমা যুক্ত করতে পারে। প্রিমিয়ামের একটি অংশ ব্যাংক ভর্তুকি দিলে কৃষকের আর্থিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং কৃষক আত্মবিশ্বাসের সাথে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
৭. আর্থিক সাক্ষরতা ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন
ব্যাংকগুলো তাদের শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কৃষকদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সাক্ষরতা কর্মশালা পরিচালনা করতে পারে। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার, অনলাইনে পণ্য বিক্রি, ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ এবং ব্যাংকের বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার পদ্ধতি শেখানো হলে কৃষকের মধ্যে প্রযুক্তির প্রতি আস্থা ও ব্যবহার উভয়ই বাড়বে।
ডিজিটাল রূপান্তর: একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম
কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে ডিজিটাল রূপান্তর কেবল প্রযুক্তি স্থাপনের বিষয় নয় এটি একটি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া যেখানে প্রযুক্তি, অর্থ এবং প্রতিষ্ঠান একসাথে কাজ করে।
রংপুর অঞ্চলে যদি একটি ডিজিটাল কৃষি ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠে, তাহলে তার কাঠামো হতে পারে এভাবে: কৃষক তার ফোনের মাধ্যমে একটি অ্যাগ্রিটেক প্ল্যাটফর্মে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেবেন। ক্রেতা সেটা দেখে সরাসরি যোগাযোগ করবেন এবং মূল্য নির্ধারণ করবেন। পেমেন্ট হবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে, যা কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা হবে। এই লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক কৃষককে পরবর্তী মৌসুমের জন্য ঋণ দেবে।
এই চক্র সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সমর্থন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের অর্থায়ন এবং অ্যাগ্রিটেক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি তিনটি উপাদান একসাথে কাজ করতে হবে।
চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
এই রূপান্তরের পথে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ আছে। রংপুর অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ এখনও দুর্বল। অনেক বয়স্ক কৃষকের প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বা দক্ষতা কম। ব্যাংকের শাখা নেটওয়ার্কও প্রান্তিক পর্যায়ে সীমিত।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্টগুলোকে ডিজিটাল কৃষি সেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ইউএসএসডি-ভিত্তিক সেবা চালু করলে স্মার্টফোন ছাড়াও কৃষক সেবা নিতে পারবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসগুলোর সাথে ব্যাংকের সমন্বয় করে গ্রামপর্যায়ে সফলভাবে এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।
বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের কৃষিখাতের বৈপরীত্য প্রচুর উৎপাদন, কিন্তু কৃষকের দারিদ্র্য একটি কাঠামোগত সমস্যা, যার সমাধান কেবল বাজার বা প্রযুক্তির মাধ্যমে হবে না। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন কৃষকের আর্থিক ক্ষমতায়ন, বাজার ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় সম্পৃক্ততা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত প্রণোদনা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ এই দুই শক্তি একত্রিত হলে রংপুরের কৃষক প্রথমবারের মতো অনুভব করবেন যে তার পরিশ্রমের সত্যিকারের মূল্য পাচ্ছেন তিনি। ডিজিটাল বাজার, সহজ ঋণ এবং ন্যায্য মূল্য এই তিনটি লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকিং খাতই হতে পারে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কার্যকর অংশীদার।
রংপুরের মাঠে যে ফসল ফলছে, তা যেন কেবল উৎপাদনের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ না থাকে বরং ডিজিটাল বাজারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পৌঁছায় দেশের প্রতিটি ঘরে, এবং সেই ন্যায্যমূল্য ফিরে আসে কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের হাতিয়ার হয়ে। এই যাত্রায় ব্যাংকসমূহই হতে পারে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সহযাত্রী।
লেখক: মো: মোস্তাফিজার রহমান,হেড অব রংপুর ব্রাঞ্চ, এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি
