প্রকাশিত: ০৮ মে ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে নোট-গাইড বইয়ের প্রচলন উঠে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য সহযোগী বই থাকলেও কোনো শিক্ষক নির্দিষ্ট বই কিনতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারবেন না।
শুক্রবার বাংলা একাডেমিতে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থা এমন দিকে ধাবিত হচ্ছে যে, নোট-গাইড শিক্ষার প্রচলিত কোন ব্যবস্থা হবে। বোধহয় আজকের দিনে পৃথিবী থেকে এগুলো উঠেই যাচ্ছে। আমি নোট-গাইড বই নিয়ে কখনো এপ্রিশিয়েট করতে পারবো না, যে নোট গাইড বই থাকুক। কিন্তু বই তো বন্ধ হবে না, কেননা অনেক লুপস রয়েছে। কথিত আছে যে, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের গাইড বই থেকেই আমাদের শিক্ষকরা প্রশ্ন করেন এবং এই শিক্ষকদেরকে আপনারা (প্রকাশনী) গাইড বিতরণ করেন। বিগত সরকারের সময় পত্র-পত্রিকায় এসেছে, শিক্ষকদের কনভিন্স করতে হ নিয়ন্ত্রণে অর্থাৎ শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমার শিক্ষকরা যদি প্রেসক্রিপশন দিতে থাকে যে, এই নোট গাইড পড়তে হবে, আর সেটিকে যদি আপনার কনভিন্স করেন, এটি ঠিক না। সহযোগী বই হতে থাকবে এবং যার যেটি ইচ্ছে সেটা কিনবে। কোয়ালিটি কম্পিটিশন হতে হবে কিন্তু এইখানে যে কারচুপিটা হচ্ছে এই কারচুপিটার নিয়ন্ত্রণ আমাকেই করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, সরকার ধাপে ধাপে শিক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাড়াচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া হচ্ছে এবং সক্ষমতা অর্জনের পর শিক্ষার্থীদেরও ট্যাব দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন টিচারদের দিচ্ছি এরপর আস্তে- আস্তে আমরা সক্ষমতা অর্জন করলে শিক্ষার্থীদেরও ট্যাব দেবো। তার মানে এটা ভাববেন না যে, বই বন্ধ হয়ে যাবে। যখন ৮০- এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কম্পিউটার সায়েন্সে লেখা-পড়া করতাম, তখন ভেবেছিলাম এই সেক্টরে গেলে আমার মনে হয় আগামী দিনে মানুষের কর্মসংস্থান কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা না। কম্পিউটার মানুষের কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে। এখনো যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় বাসে-ট্রেনে গেলে দেখবেন তারা বই পড়ছেন।’
অনুষ্ঠানে প্রকাশনা খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
