শনিবার ০৯, মে ২০২৬

শনিবার ০৯, মে ২০২৬ -- : -- --

সমাজের আলোর দিশা নারীর শক্তি

আব্দুল্লাহ আর রাফি,গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

ফাইল ফটো।

"নারী" শব্দটিতে রয়েছে  বিশেষণের  এক মহাসমাহার।এ চরিত্রে রয়েছে গভীর এক মমত্ত্ববোধ, স্নেহ, ভালোবাসা। আবার রয়েছে  প্রতিবাদী, বিদ্রোহী, সমাজ সংস্কারকের ভুমিকায় সর্বেসর্বা মহীয়সী রুপ। এ যেন সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে সমাজের বিশেষ আশীর্বাদ। সেই মহীয়সী নারীর ভুমিকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আর রাফি

নিজেকে অধিক শক্তিধর দাবি করা পুরুষের জন্ম এই নারীর গর্ভেই

আমাদের সমাজে নারীদেরকে সাধারণত সবচেয়ে নীরিহ এবং শক্তিহীন শ্রেণি হিসেবে দেখা হয়। তবে আমি নারীকে দেখি শক্তিশালী এক বাঘিনী রূপে।

স্রষ্টা নারীকে এমন সব কাজ করার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা একজন পুরুষের পক্ষে করা অসম্ভব।নারীরা সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে মানবজাতিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নিয়ে যায়। নিজেকে অধিক শক্তিধর দাবি করা পুরুষের জন্ম এই নারীর গর্ভেই হয়। তারা সফলতার চূড়ান্ত শেকড়ে উন্নীত হয় নারীর অনুপ্রেরণাতেই। আবার সন্তানের সফলতার পেছনেও মূল ভূমিকা থাকে মায়েরই।

নারীর মূলত দুটি রূপ বিদ্যমান। একদিকে তারা যেমন মমতাময়ী এবং নীরিহ, অন্যদিকে তাদের রুদ্রমূর্তি এতটাই প্রখর এবং প্রবল যে অশুভ শক্তির বিনাশ ও ধ্বংস ডেকে আনে। ঘর ও সন্তান সামলানোর অদৃশ্য চাপ এক হাতে সামলে নারী যেভাবে উভয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনে, তা এক অনন্য কীর্তি। তবে বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীদের সফলতা মেনে নিতে পারে না। নারীকে দমিয়ে রাখার নানান অপচেষ্টায় তারা লিপ্ত।

নারীদের প্রতি নৃশংসতা, খুন, ধর্ষণ এই শব্দগুলো এখন আর কেবল আইনের পরিভাষা নয়; এগুলো হয়ে উঠেছে আমাদের সময়ের রক্তাক্ত অভিধান।যেন নারী যেখানে যায়, সেখানেই তাকে তাড়া করে এক অদৃশ্য হিংস্রতা।কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও এর দুর্বল প্রয়োগ ও দীর্ঘসূত্র বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে অপরাধীরা শাস্তির ভয় পায় না। সামাজিক লজ্জা ও ভিকটিম ব্লেমিংয়ের কারণে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করতে সাহস পান না।একজন নারী হিসেবে আমার প্রত্যাশা একটাই অন্যায়ের বিচার হোক, নারীরা নির্ভয়ে বাঁচুক।

নায়িমা আখতার
আইন বিভাগ।গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

নীরব অগ্রসর হওয়াটাই আমার কাছে নারীর সবচেয়ে বড় শক্তি

আমি নারীর শক্তিকে দেখি তার ভেতরের স্থিতিতে, ভেঙে পড়ার মুহূর্তেও নিজেকে আবার গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষমতায়। যেই নারীদের গল্প কোনো বইয়ে লেখা হয় না, সংবাদে আসে না, তবুও তারা প্রতিদিন নিজের ভেতরের ভয়, ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তাকে পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। এই নীরব অগ্রসর হওয়াটাই আমার কাছে নারীর সবচেয়ে বড় শক্তি।

ফারিহা নওশিন তাসফিয়া
আইন বিভাগ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নারীর শক্তিই সমাজের আলোর দিশা

৮ই মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় International Women's Day একটি দিন যা নারীর সংগ্রাম, অধিকার ও অর্জনের কথা আমাদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনের জন্য নয়; বরং এটি আমাদের ভাবতে শেখায় সমাজে নারীর প্রকৃত অবস্থান কী এবং তাদের সম্মান ও অধিকার কতটা নিশ্চিত করা গেছে। সত্যিকার অর্থে একটি সমাজ তখনই উন্নত হয়, যখন সেই সমাজে নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। তাই বলা হয়,নারীর শক্তিই সমাজের আলোর দিশা।

মানবজীবনের সূচনালগ্ন থেকেই নারীর অবদান অপরিসীম। একজন নারী মা হিসেবে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, আবার শিক্ষিকা হিসেবে তাকে মানবিক মূল্যবোধ শেখান। একটি শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সেই কারণেই একজন শিক্ষিত ও সচেতন নারী পুরো একটি প্রজন্মকে আলোকিত করতে পারেন। এই জন্য হয়তো নেপোলিয়ন বলেছিলেন, "তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি শিক্ষিত জাতি দিব।" নারী শুধু পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকেই আলোর পথে পরিচালিত করার ক্ষমতা রাখেন।

বাংলা সাহিত্য ও দর্শনেও নারীর শক্তির কথা গভীরভাবে উচ্চারিত হয়েছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথও তাঁর কবিতায় বলেছেন—

“সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান,

মুক্ত করো ভয়, আপনার মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।”

এই কথার মধ্য দিয়ে তিনি নারীর আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। মানুষের ভিতরের শক্তিই তাকে সত্যিকার অর্থে মুক্ত করে, এই শিক্ষা নারী-পুরুষ সবার জন্যই সমান প্রযোজ্য।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নারীর মর্যাদা ও অবদানের কথা বলতে গিয়ে লিখেছেন—

“বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর,

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”

এই চরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সমাজের প্রতিটি উন্নয়ন, প্রতিটি সাফল্যের পেছনে নারীর অবদান রয়েছে। তাই নারীকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজই পূর্ণাঙ্গ উন্নতি করতে পারে না।

বর্তমান যুগে নারীরা জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসন, ব্যবসা, বিজ্ঞান ও রাজনীতি—সব জায়গায় নারীদের উপস্থিতি আজ দৃশ্যমান। অনেক নারী আজ নেতৃত্বের আসনে বসে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নারীরা শুধু নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করছেন না, বরং সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠছেন।

কোরান স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয়— “পুরুষ ও নারী সমান দায়িত্বশীল; তারা একে অপরের বন্ধু এবং সহায়ক।” [সুরা আত-তওবা ৯:৭১]। এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীর অবদান পুরুষের সঙ্গে সমান, এবং সমাজ ও পরিবারের অগ্রগতির জন্য তাদের ভূমিকা অপরিহার্য। পাশাপাশি হাদিসেও রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন— “নারীকে কষ্ট দাও না, তিনি তোমার জীবন ও সন্তানের প্রথম শিক্ষক।” [সহিহ বুখারি]। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায় যে নারীর মর্যাদা ও দায়িত্ব শুধু পারিবারিক নয়, সামাজিক ও শিক্ষাগত ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বনেতা মহাত্মা গান্ধী একবার বলেছিলেন, “নারীকে দুর্বল বলা অন্যায়, এটি পুরুষের অন্যায় অবিচার।” তাঁর এই বক্তব্য আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে নারীর শক্তি কখনোই দুর্বলতার প্রতীক নয়; বরং এটি মানবসমাজের এক অপরিহার্য শক্তি।

নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষা একজন নারীকে সচেতন, আত্মনির্ভরশীল এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলে। এই প্রসঙ্গে নোবেলজয়ী শিক্ষাকর্মী মালালা ইউসুফজাই বলেছেন— “একটি শিশু, একটি শিক্ষক, একটি বই এবং একটি কলম পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে।” এই কথাটি শুধু শিক্ষার শক্তিকেই তুলে ধরে না, বরং নারীর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকেও স্পষ্ট করে।

তবে বাস্তবতা হলো, এখনো বিশ্বের অনেক জায়গায় নারীরা বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হন। অনেক নারী তাদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান থেকে বঞ্চিত হন। সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে অবহেলা করা হয়। এই বৈষম্য দূর করার জন্য শুধু আইনই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন।

যদি নারীরা তাদের স্বপ্নের উপর বিশ্বাস রাখতে পারে এবং সমাজ তাদের সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দেয়, তাহলে সমাজের অগ্রগতি আরও দ্রুত হবে। আধুনিক বিশ্বের আরেকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মিশেল ওবামা বলেছেন—

“কোনো সমাজ তখনই উন্নত হয়, যখন সেই সমাজের নারীরা শিক্ষিত ও ক্ষমতাবান হয়।”

এই কথাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীর উন্নয়ন ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সবশেষে বলা যায়, নারীরা সমাজের অর্ধেক শক্তি। এই শক্তিকে অবহেলা করলে সমাজ কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো নারীদের সম্মান করা, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া। যখন নারীরা নিজের শক্তিতে আলোকিত হবে, তখন সেই আলোয় আলোকিত হবে পরিবার, সমাজ এবং পুরো পৃথিবী।

শ্রাবণী ইসলাম
আইনবিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

নারীর ক্ষমতায়ন একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

নারীর শক্তি কেবল ব্যক্তিগত জীবনের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পুরো সমাজকে আলোকিত করার ক্ষমতা রাখে। একজন নারী তার পরিবারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সেই ভূমিকার মাধ্যমেই তিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন। একজন মা হিসেবে তিনি তার সন্তানদের নৈতিকতা, মানবিকতা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ শিক্ষা দেন। আবার একজন শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী হিসেবে তিনি সমাজের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।

বর্তমান সময়ে নারীরা শিক্ষা, প্রশাসন, আইন, চিকিৎসা ও ব্যবসাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন। আজকের নারীরা শুধু নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্যই কাজ করছেন না; বরং তারা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠছেন। তাদের সাফল্য সমাজকে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয় যে সঠিক সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে নারীরাও বড় ধরনের উন্নয়ন সাধন করতে সক্ষম।

তবে এখনো অনেক নারী বিভিন্ন সামাজিক বাধা ও বৈষম্যের সম্মুখীন হন। এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করার জন্য যে সাহস ও দৃঢ়তা প্রয়োজন, সেটিই নারীর প্রকৃত শক্তিকে প্রকাশ করে। যদি সমাজ নারীদের সমান সুযোগ, সম্মান এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবে নারীরা সমাজের উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখতে পারবেন।

নারীর ক্ষমতায়ন একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকবে। কারণ নারী এগিয়ে গেলে বিশ্ব এগিয়ে যায়, আর সেই অগ্রগতিই আমাদের ভবিষ্যতের পথে উজ্জ্বল আলো হয়ে পথ দেখায়।

মোছা: রিমু আক্তার 
আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

“একজন নারী সম্পূর্ণ বৃত্ত। যার মধ্যে সৃষ্টি, লালন ও রূপান্তর করার শক্তি রয়েছে।”

ডায়ান মেরিচাইল্ডের চোখে নারী একজন সম্পূর্ণ বৃত্ত হলেও আমার চোখে নারী বৃত্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু, যাকে ঘিরে সকল কিছু আবর্তিত হয়। আমরা যদি পরিবারের দিকে তাকাই তাহলে সেখানে নারী কখনো মা, কখনো স্ত্রী, কখনো বোন, কখনো কন্যা। এবং একটি পরিবার বর্ধিত হয় এই নারীর গর্ভে নতুন শিশু আসার মাধ্যমে। তাহলে নারী ছাড়া কি কোনো পরিবার কল্পনা করা যায়? উত্তর যদি না হয়, তাহলে সমাজ, দেশ এমনকি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নারী ছাড়া সম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। যে নারী আমাদের পরিবারকে, সমাজকে, দেশকে সম্পূর্ণ করে সেই শক্তি আমাদের সমাজের আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে সমাজের প্রতিটি স্তরে পদচিহ্ন রেখে।

নারী যেমন সংসারকে পরিপূর্ণ করেন, হয়ে ওঠেন সন্তানের প্রথম শিক্ষক, অসুস্থতায় প্রথম সেবক, সেভাবেই পরিপূর্ণ করে চলেছেন দেশের শিক্ষাঙ্গন, সমরাঙ্গন, অর্থনীতি, রাজনীতি সহ সকল খাত। নারী শক্তির এই বিকাশ আমাদের নিয়ে যাচ্ছে সভ্যতার উন্নততর স্তরে।

মুদ্রার যেমন এক পিঠ আছে, তেমনি আছে অপর পিঠও। নারী শক্তির যে বিকাশ আমরা দেখতে পাচ্ছি তা আসলে দেশের ঠিক কত শতাংশ নারীকে প্রতিনিধিত্ব করে? আমরা যদি পরিসংখ্যান দেখি তাহলে তা অতি সামান্যই। এদেশের অধিকাংশ মানুষের বাস গ্রামাঞ্চলে। আর সে গ্রামাঞ্চলেই পুরুষতন্ত্রের প্রকট আবরণ ঢেকে রাখে এই সম্ভাবনাময় শক্তিকে।

গ্রামের অসংখ্য নারী আজও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থেকে দূরে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সুযোগ থেকেও বিচ্ছিন্ন। সামাজিক কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য এবং বৈষম্যের কারণে তাদের স্বপ্নগুলো অনেক সময় অঙ্কুরেই ঝরে যায়। অথচ এই নারীরাই পরিবার ও সমাজের ভিতকে দৃঢ় করে রাখেন নীরবে, নিরলসভাবে।

তাই নারী শক্তির প্রকৃত বিকাশ তখনই সম্ভব, যখন শহর ও গ্রামের এই বৈষম্য দূর হবে; যখন প্রতিটি মেয়ে সমানভাবে শিক্ষা, সম্মান ও সুযোগের অধিকার পাবে; যখন সমাজ নারীর সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ না করে তাকে এগিয়ে যাওয়ার পথ করে দেবে।

কারণ নারী শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি জাতিরও ভিত্তি। নারীর অগ্রগতি মানেই সমাজের অগ্রগতি, দেশের অগ্রগতি। আর তাই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য নারীকে তার পূর্ণ মর্যাদা ও সম্ভাবনার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

আজমিরা
আইন বিভাগ।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

Link copied!